ঢাবিতে শেষ রক্ষা হলো না জালিয়াতদের

images41.jpg

সিনজাত রহমান সানি, ঢাবি ঃ

বিগত বছরগুলোতে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এবং ডিজিটাল জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া ও ভর্তিতে সহায়তাকারী ৯১ শিক্ষার্থীর তথ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয় সিআইডি থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিআইডিকে এসব তথ্য দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান।

সিআইডির চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা, শিক্ষাবর্ষ, ইউনিট, বিষয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল, সেমিস্টারভিত্তিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুনঃ ভর্তির বিস্তারিত। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্তের জন্য সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার সুমন কুমার দাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৩ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ৯, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৮, অর্থনীতি বিভাগের ৫, মনোবিজ্ঞানের ৫, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪, আইন বিভাগের ৪, ইসলামিক স্টাডিজের ৪, পদার্থবিদ্যার ৩, ফার্মেসির ৩, বাংলার ৩, বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতির ৩, ফলিত রসায়নের ২, ইতিহাসের ২, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ২, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের ২, ফিন্যান্সের ২, মার্কেটিং বিভাগের ২, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের ২, স্বাস্থ্য অর্থনীতির ২, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের ২ এবং সংস্কৃতি বিভাগের ২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ বৈকল্য, হিসাববিজ্ঞান, ইংলিশ ফর আদার ল্যাংগুয়েজ, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান এবং পালি বিভাগসহ আরও বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীর তথ্য চেয়েছে সিআইডি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি চিঠি এসেছে। সেখানে সিআইডি ভর্তি জালিয়াতিসংক্রান্ত ঘটনায় কিছু শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল। আমরা সেগুলো সিআইডিকে দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সিআইডি যখন যে তথ্য চেয়েছে, আমরা তা দিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছি। এ ক্ষেত্রে আমরা টিমওয়ার্কের মতো কাজ করছি। যখন তদন্ত শেষ হবে তখন নাম প্রকাশ করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top