রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের মাস হলো রমজান মাস। সিয়াম সাধনার মাস সিয়াম শব্দের অর্থ রোজা।
রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সামাজিক সংযম এবং মানবিকতার এক অনন্য প্রশিক্ষণ। মহান আল্লাহ বলেন:
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
(সূরা আল-বাকারা )
এই তাকওয়া কেবল আল্লাহভীতি নয়; এটি নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং সামাজিক জীবনে সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়।
কুরআনে আরও নির্দেশ আছে:
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়, সদাচার ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। (সূরা আন-নাহল )
রোজার মাসে এই শিক্ষাটি আমাদের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে—যাতে আমরা শুধু ইবাদতে নয়, সামাজিক আচরণেও ন্যায়, সহমর্মিতা এবং দয়া প্রকাশ করতে পারি।
রাসূলুল্লাহ সঃ বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহীহ বুখারী)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন: রোজা হলো ঢাল।
(সহীহ বুখারী)
এটি আমাদের রাগ, কটু ভাষা, অহঙ্কার ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে।
আরও বলা হয়েছে যে যখন কেউ রোজা রাখবে, সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকে; কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা বিরক্ত করার চেষ্টা করে, সে যেন বলে—আমি রোজাদার। (সহীহ মুসলিম)
রোজা আমাদের চরিত্র ও সমাজের দুটো দিককে পরিশুদ্ধ করে। এটি ব্যক্তিগতভাবে সংযমী ও ধৈর্যশীল হতে শেখায়, আর সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং রোজার প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন তা আমাদের দৈনন্দিন জীবন আচরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। এমন একটি সমাজ গড়ে ওঠে যেখানে মানুষ মানুষের জন্য সত্যিকারের আশ্রয়, সহযোগিতা ও দয়া প্রদর্শন করে। রোজার শিক্ষা তাই শুধু ইবাদত নয়; এটি ন্যায়, সংযম ও মানবতার চিরন্তন পাথেয়।
এম.মিজানুর রহমান।
শিক্ষার্থী কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়। জেদ্দা, সৌদি আরব।