নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক কর্মচারীর মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানো হলেও সেটি আদতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে নিহত কামাল হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে আসায় ঘটনাটি এখন অনুসন্ধানী তদন্তের দাবি তুলেছে।
নিহতের স্ত্রী মকছুদা বেগম জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, তার স্বামী কামাল হোসেন ১৯৮৫ সাল থেকে সওজ বিভাগে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সরকারি কাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই নিয়মিত সড়ক উন্নয়নকাজ তদারকির সময় পরিকল্পিতভাবে একটি গাড়ি দিয়ে তাকে চাপা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করতে মানববন্ধন পর্যন্ত করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মৃত্যুর পর ১৯৮৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কামাল হোসেনের সার্ভিস রেকর্ডে ভুয়া তথ্য সংযোজন করে একটি মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে তার প্রকৃত সরকারি প্রাপ্য সুবিধা বঞ্চিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রাপ্ত ১০ লাখ টাকা ভুয়া ওয়ারিশ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মকছুদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারিভাবে তার সন্তানদের চাকরি দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও সেই পদগুলো অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে দেওয়া হয়। উল্টো তাকে নামমাত্র পেনশন উত্তোলনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
অভিযোগ উত্থাপনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও অভিযুক্তরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন দাখিল করে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে পুনরায় সঠিক তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো কোনো সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ওই বিধবা নারী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার জন্য চাপ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবার সঠিক গ্র্যাচুইটি, পূর্ণ পেনশন ও সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা আদায়ের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।