বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে জোয়ার বয়ছে, সেই জোয়ারে ভেসেছেন বিশ্বের শক্তিধর কিছু দেশ। তবে পলিটিক্যাল এলায়েন্সের মাধ্যমে বিবেচনা করলে দেখা যায় কম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ও ছোট রাষ্ট্র গুলোও সেই শক্তিধর দেশগুলোর সাথে এলাই গঠন করে আরো আন্তর্জাতিক ভিত্তি মজবুত করছে৷ এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও মজবুত হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির এপার্ট- ওপার্ট। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে। যেমন পরিবর্তন হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশীয় দেশগুলোর এবং আরব দেশগুলোর। বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষিতে শক্তিধর দেশগুলো ভবিষ্যতের জন্য হুমকির বার্তা দিচ্ছে। যেমনটা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোর পূর্বক গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে আমেরিকার একক আধিপত্যবাদের প্রকাশ ঘটেছে। বৃহৎ শক্তির যে প্রভাব তা স্পষ্ট দেখা যায় এই গ্রেফতারের মাধ্যমে। যেখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন সহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানাতেও ব্যর্থ। যদিও কিছু দেশ নিন্দা জানিয়েছে, সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। বিশ্ব নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া আমেরিকার এই প্রশ্নে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা নিরাপদ তা স্পষ্ট দেখা যায়। যেখানে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তির দেশ খুব বেশি নয়। ছোট রাষ্ট্র গুলোর বা উল্লেখযোগ্য ক্ষমতাহীন রাষ্ট্রগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন জাগে যে ভবিষ্যতে কতটা নিরাপদ। তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রশ্নে যে বিশ্বরাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে তেমনটাও অনুমান করা যায়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কম উন্নত দেশগুলো নির্ভর করে চলে বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর সাথে। যেখানে বানিজ্যিক চাপ, রাজনৈতিক চাপ, কূটনীতিক চাপের মধ্যে নিয়ে ছোট রাষ্ট্র গুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করে। দক্ষিণ এশিয়ার জনবহুল দেশগুলোর যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তা দীর্ঘ মেয়াদি কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর সাথে এই জোটবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে সহজেই যেকোন রাষ্ট্রকে কোনঠাসা করে ফেলে বড় রাষ্ট্র গুলো। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর মধ্যে চীনের প্রভাব থাকলেও অন্যান্য দেশের প্রভাবও বিদ্যমান। তাই প্রতিনিয়তো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে কৌশল অবলম্বন করে থাকে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারণ মানুষ, দেশের অর্থনীতি অন্যথায় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় অর্থনীতিকেও কোনঠানা হয়ে পড়ে। আরব দেশগুলো ভবিষ্যত পরিবর্তনই বলে দিবে বিশ্ব নেতৃত্ব কোন দিকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো র মধ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানেও আন্দোলন চলমান। যেখানে মায়ানমার জান্তা সরকারের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুলোর দীর্ঘদিনের লড়াই চলমান রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নির্দিষ্ট কোন সমাধান না থাকলেও সমাধানের সম্ভাবনাও নেই। সরকার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশেও একটা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন প্রদেশেরও আন্দোলন চলমান তেমনি পাকিস্তানেও চলমান রয়েছে স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের আন্দোলন। প্রতিনিয়তো এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রে। যেমনটা মায়ানমার জান্তা সরকারের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিতাড়িত সহ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নাচক করছে মায়ানমার সরকার। যেখানে অনিশ্চয়তায় রয়েছে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এই যে প্রতিনিয়তো এশিয়ান দেশগুলোর মাঝে সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি ভূখন্ডে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অনিশ্চয়তা রয়েছে বিভিন্ন দেশ। কেননা বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তন আসবে অর্থনীতি, রাজনীতি ও ও সমাজ ব্যবস্থার। এমতো অবস্থায় কূটনীতিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথ তৈরী করতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায়, অর্থনতিক খাত উন্নয়ন ও সচেতনতা জরুরি।
মোঃ আসাদুল হক আসাদ
শিক্ষার্থী : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।