ইরফাত ঐশী, কুড়িগ্রাম :
সন্তানের কবরের পাশে আসলে মায়ের কি রকম অনুভুতি সেটা কমবেশি সবাই জানে!
এক সংবাদ মাধ্যমে এভাবেই বলেছিলেন ফেলানীর মা। আসলে ভারতপ্রীতি আর ভারতের দালালরা কখনও চাইবে না এই নির্মম হত্যার বিচার হোক। আমরা সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ চাই আমার বোন ফেলানী হত্যার দ্রুত বিচার হোক। আদৌ আর কোনো দিন বিচার হবে কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই। উনিশ বছরের এর তরুণীর লাশ ঝুলছে ঘন্টার পর ঘন্টা কি বিভৎস দৃশ্য।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হন নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনিটারী এলাকার কিশোরী ফেলানী খাতুন। কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকার ও দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এরপর বাংলাদেশ সরকার ও বিজিবি মহাপরিচালকের চাপে উক্ত ঘটনায় ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় এবং ফেলানী হত্যার দায়ে বিএসএফের অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষককে ক্লোজ অ্যারেস্ট করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জিএসএফসি ফেলানী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয়।
রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনঃবিচারের দাবি জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালে ফের বিচার শুরু হয়। ওই বিচারের রায়ে ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর অভিযুক্ত দ্বিতীয়বারের মতো খালাস পান। পরে ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) মানবাধিকারকর্মী কিটি রায় ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে। এর পর বারবার শুনানির তারিখ পিছিয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য হলেও, সেদিন আর তা হয়নি। আর এখন ২০২৬ সাল। কিন্তু সেই বিচারের কোনো খবর নেই।