মো: বেলাল হোসেন পাটোয়ারী, পরশুরাম, ফেনীঃ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় দক্ষিণ কাউতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের গতি ধীরগতি এবং নকশা অনুযায়ী কাজ না করায় ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় সরকারি অর্থায়নে বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ঘটছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান ইট, রড, সিমেন্ট ও বালুর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান,৫ আগস্টের পর আওয়ামী সরকার পাতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যায়।এতে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ হয়ে থাকে।পরে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ আলমের দায়িত্বে নতুন করে কাজ শুরু হয়।কিছুদিন আগেও নতুন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজের অনিয়ম দেখা গেছে। এই অনিয়ম দেখা গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের তোপের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার কাজ শুরু করে উপজেলা এলজিইডি অফিসার শাহ আলম ভূঁইয়া।
জানা গেছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “তুলি তুশি” এন্টারপ্রাইজ।৬৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩০৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের বর্তমানে সবই পরিচালনা করছে উপজেলা এলজিইডি।
বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকদের দাবি , নতুন ভবন নির্মাণে কাজের অনেক অনিয়ম হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ দায়সারা কাজ করছে যেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে অনিয়ম হলে শিশুরা বিদ্যালয়ে নিরাপদ থেকে পড়াশোনা করতে পারবে না।
প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা বলেন আমি নিজে অনেকগুলো অনিয়ম দেখেছি এবং কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি তবে তারা এ বিষয়ে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। কাজ ধীরগতিতে চলছে। ভবন নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর নবী চৌধুরী জানান, ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুল ভবনের নির্মাণ কাজে সিলেকশান বালুর পরিবর্তে ভিটি বালু দিয়ে ছাদ ঢালাই দিয়েছে ঠিকাদার। ঢালাইতে সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। দুই-তিন নম্বর ইট দিয়ে দেয়ালের গাঁথুনি নির্মাণ করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভবন পরিদর্শন করে দেখেছেন, কাজের মান অত্যন্ত খারাপ। তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করবে বলে প্রত্যাশা করি।
এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন: নতুন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে যে অনিয়ম বিষয়টি এসেছে আমি সেটি সমাধান করে দেয়ার চেষ্টা করেছি।