এম এইচ ইমরান চৌধুরীঃ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি চুরির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ভাসমান চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা থানাধীন ৮ নম্বর চাতরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমুরিয়া এলাকায় নয়া মিয়া কন্ট্রাকটরের বাড়িতে অবস্থিত আলী হোসেনের বসতঘরে চুরির ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. তৌফিক ওরফে তৌফিকুল ইসলাম হৃদয় (২২)। তিনি বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা। নদীগর্ভে তার পৈত্রিক বাড়ি বিলীন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আনোয়ারা থানার মামলা নং–১২ (তারিখ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬), দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলার বাদী আলী হোসেন (৬০)। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তাঁর মেয়ের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিজ ঘরে সংরক্ষণ করেছিলেন।
গত ১৪ জানুয়ারি রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১৫ জানুয়ারি ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খোলা ও আলমারির জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে একটি স্টিলের আলমারি থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, একটি স্মার্টফোন, নগদ অর্থ ও একটি ডিপিএস বই চুরি হয়েছে বলে নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) শিমুল চন্দ্র দাসকে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি আনোয়ারা থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অভিযুক্ত তৌফিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের নেকলেস, একটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া কানের দুল, নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকায় চুরি করতেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।