ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কথাবন্ধু আজিবরে মুগ্ধ সবাই

প্রতিবেদক
News Desk
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

বাংলার শ্যামল প্রান্তর যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই যেন শুরু হয় এক জীবনের কাব্য। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার কিশোরপুর গ্রামের ধুলো-মাটি মাখা এক মানুষ আজিবর মন্ডল। পেশায় তিনি চাষি, কিন্তু তার ভেতরে বাস করে এক বিশেষ সত্ত্বা,লেখালেখি এবং আবৃত্তি। যা তাকে নিয়ে গেছে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি।
আজিবর প্রমাণ করেছেন, রুক্ষ মাটির বুক চিরে যেমন সোনার ফসল ফলে, তেমনি কঠোর পরিশ্রমের খতিয়ান ছাপিয়েও জন্ম নিতে পারে নন্দনতত্ত্বের অনুপম ঝংকার। তেমনি এক ঝংকার আজিবর মন্ডল কেবল একজন কৃষক নন, তিনি আধুনিক বাংলার ‘নাগরিক কবিয়াল’।​আজিবরের জীবন যেন এক ‘বিষাদ-সিন্ধু’। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পা রাখার কথা, ঠিক তখনই নিয়তির অমোঘ বিধানে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। মায়ের বিদায় আর সংসারের দায়িত্ব তাকে পাঠশালার বদলে নিয়ে যায় কর্দমাক্ত কৃষিজমিতে। শত প্রতিকূলতা তার মেধা নিভিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, তা তাকে করে তুলেছে আরও উজ্জ্বল ও শাণিত।​মাঠে যখন তিনি নিড়ানি দেন কিংবা লাঙল চালান, তখন তার ঠোঁটে উচ্চারিত হয় জীবনানন্দ দাসের, আবার আসিব ফিরে কিংবা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নিখিল আক্ষেপ। আজিবরের কণ্ঠে কবিতা যেন ‘স্বভাবোক্তি’ অলঙ্কারের মতো সহজ ও সাবলীল। তার প্রতিটি উচ্চারণ যেন মাটির গন্ধ মাখা এক একটি মুক্তো। ফেসবুকের ‘কবিতাওয়ালা’ পেজে যখন তার কবিতা ধ্বনিত হয়, তখন তা কেবল আবৃত্তি থাকে না, হয়ে ওঠে ‘উৎপ্রেক্ষা’—যেন তপ্ত রোদে এক পশলা বৃষ্টি।
​আজিবর মন্ডল প্রমাণ করেছেন যে, জীবন যদি হয় একটি ‘রূপক’, তবে পরিশ্রম আর সাধনা তার দুই শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। তার এই উত্থান যেন বাংলা সাহিত্যের সেই অমোঘ সত্যকে পুনপ্রতিষ্ঠা করে—শিল্প কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়। লাঙলের ফলায় তিনি যেমন মাটির বুক চিরে অন্ন জোগান, তেমনি কণ্ঠের জাদুতে তিনি বাঙালির মননে রসের জোগান দিচ্ছেন। এটি শ্রম ও শিল্পের এক অনন্য ‘সমাসোক্তি’, যেখানে জড় কঠিন জীবন আর সৃজনশীল প্রাণ মিলেমিশে একাকার। এক আলোকবর্তিকা
​আজিবরের এই জয়যাত্রা আমাদের শেখায়, অভাবের তীব্র দহন থাকলেও যদি অন্তরে শিল্পের ‘পারিজাত’ ফুটে থাকে, তবে তা একদিন সুবাস ছড়াবেই। কিশোরপুরের এই নিভৃতচারী শিল্পী আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার এক অক্ষয় ‘উপমা’। আজিবেরর সাথে আলাপকালে তার শুরুটা কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি জানান,” হঠাৎ করেই আসা। কোন প্রস্তুতি কিংবা পরিকল্পনা ছিল না। মাঠে কাজ করতেছি এমন সময়ে হঠাৎ করে একটা আবৃত্তি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করি। তারপর সাহিত্য পাগল মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমার কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই,মনের খিদে মেটানোর জন্য লেখালেখি এবং আবৃত্তি করি।”

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ফিচার লেখক হাসান মাহমুদ শুভ।

আরও পড়ুন

গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ নারী অধিকার আন্দোলনের

নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি ছাত্রদল নেত্রী তায়েবা ত্বহার, এতে ক্ষিপ্ত শিক্ষার্থীরা

আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের সহ-সভাপতি হলেন ডা. এস এম সাইদুল হক

বিএনপি ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে: আব্দুল্লাহ আল ফারুক

এদেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেনি তারাই ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন করতে চায়- সালাহউদ্দিন আহমদ

আগুন নেভাতে যাওয়ার পথে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা

ডিজিটাল নাগরিকতা ও অপতথ্য যাচাই বিষয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের গ্রামভিত্তিক ক্যাম্পেইন

জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করায় শৈশবের স্কুলের ছোট ভাইদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সালাউদ্দিন আহমেদ

ছায়া সংসদ বিতর্কে রানার আপ অর্জন ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের

সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েও কুবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেন রাতুল

“হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস ফিরে আনা সম্ভব:ড.এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

ডা. শফিকুর রহমানের জনসভা আজ মহেশখালীতে প্রস্তুত মঞ্চ, প্রশাসনের নজরদারি জোরদার