নাফিজ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের এমন একজন তরুণ, যিনি একই সাথে শরীর, মন ও মানবসেবাকে নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ ম্যারাথন দৌড়বিদ, একজন দায়িত্বশীল মেডিকেল স্টুডেন্ট, এবং দেশের রানিং জগতে পরিচিত একটি নাম—RunMed এর প্রতিষ্ঠাতা।
নাফিজ স্বপ্ন পূরণের পথে কখনো থামে না। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন আত্মবিশ্বাস, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে। কঠোর পড়াশোনা, ক্লিনিকাল ট্রেনিং এবং দৌড়ের অনুশীলন—এই তিনেকেই তিনি সমান গুরুত্ব দেন। তার লক্ষ্য শুধু ভালো ডাক্তার হওয়া নয়, বরং সমাজের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখা।নাফিজের জীবনে দৌড় একটি বড় অনুপ্রেরণা। দীর্ঘ দূরত্বে দৌড় তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, মনোবল ও আত্মসমর্পণের মানে—এই গুণগুলো তিনি নিজের জীবনে প্রতিদিনই প্রয়োগ করে থাকেন।
তার এই দৌড়ের ভালোবাসা থেকেই জন্ম হয় “RunMed” — একটি রানিং-ভিত্তিক কমিউনিটি ও প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশের তরুণ রানারদের সংযুক্ত করে, তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয় ও স্বাস্থ্য সচেতন সমাজ গঠনে অবদান রাখে। RunMed এর মাধ্যমে নাফিজ নিয়মিত দৌড় ইভেন্ট, ট্রেনিং সেশন, স্বাস্থ্য সচেতন কর্মসূচি ও রানিং চ্যালেঞ্জ আয়োজন করেন — যার উদ্দেশ্য সব বয়সী মানুষের মধ্যে দৌড়কে একটি জীবনধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। নাফিজ বিশ্বাস করেন, দৌড় কেবল একটি ক্রীড়া নয়—এটা একজন মানুষের মন, শরীর ও আত্মার সমন্বয়। তিনি চান যেন বাংলাদেশে তরুণরা দৌড়কে কেবল প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে, বরং এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলে।
তার জীবনের মূল লক্ষ্য হলো:
সমাজে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সচেতনতা বৃদ্ধি করা
তরুণদের মধ্যে মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক শক্তি তৈরি করা
রানিং কমিউনিটি গড়ে তোলা যেখানে সবাই একে-অপরকে উৎসাহিত করবে
নাফিজ অত্যন্ত সংযত, কঠোর পরিশ্রমী ও স্বপ্নদ্রষ্টা একজন মানুষ। দৌড়ের প্রতি তার নিষ্ঠা ও মেডিকেল পড়াশোনার প্রতি তার দায়বদ্ধতা—এসব গুণই তাকে শুধু একজন সফল অ্যাথলেট বা চিকিৎসক করে তুলবে না, বরং ভবিষ্যতের একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব করে তুলবে।
নাফিজ শুধু একজন দৌড়বিদ বা মেডিকেল স্টুডেন্ট নন—তিনি একটি চলমান গল্প, একটি অনুপ্রেরণার নাম। তার পথচলা প্রমাণ করে, যদি ইচ্ছা দৃঢ় হয়—তাহলে একসাথে স্বপ্ন দেখা, দৌড়ানো আর মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব।
হাসান মাহমুদ শুভ