খুব বেশি আমায় মনে পড়লে
তৌফিকুর প্রামাণিক
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
গোটা গোটা অক্ষরে একটা বার্তা দিও,
সাথে একটা রুমাল দিও,
সে রুমালে তোমার ওমন মেঘকালো চুলের সুগন্ধি দিও।
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
কোমল মোলায়েম হাতে লেখা একটা চিঠি দিও,
সাথে চোখের কিছু বর্ণনা দিও।
আচ্ছা, তোমার চোখের কাজল কি ঠিক
আগের মতোই আছে, নাকি আর কাজল পরো না?
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
একটা হলুদ খাম দিও,
খামে ভরে তোমার কপালের ঐ কালো টিপটা দিও।
আচ্ছা, তোমার কপালে কি আর কেউ চুমু খায়নি?
তোমার কপালে চেয়ে আর কেউ কি বলেনি,
তোমার কপালে ঐ কালো টিপটা এত সুন্দর মানায় কেন?
নাকি আর টিপ পরো না?
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
কেঁদো না,
কাঁদলে তোমাকে নদী ভাঙনের মতো লাগে।
প্রকাণ্ড ঢেউ যেমন তীরে এসে আছড়ে পড়ে,
ক্ষয়ে ক্ষয়ে একসময় বিলীন হয়ে যায়।
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
কেঁদো না,
কাঁদলে তোমাকে নদী ভাঙনের মতো লাগে।
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
এক টুকরো উজ্জ্বল হাসি দিও সূর্যের মতো,
কিন্তু অতটা প্রখর নয়—শেষ বিকেলের হাসি দিও।
সাথে কিছু একটাতে তোমার ওষ্ঠের ছোঁয়া দিও।
কতদিন তোমার ওষ্ঠের স্পর্শ পায় না আমার ওষ্ঠ,
শুষ্ক হয়ে পড়ে আছে কতদিন।
খুব বেশি আমায় মনে পড়লে,
কেঁদো না,
কাঁদলে তোমাকে নদী ভাঙনের মতো লাগে।