নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর (রংপুর):
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা কেন্দ্রগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মাঠেরহাটে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় অনলাইনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে.‘আরকে অনলাইন সার্ভিস’।
একসময় যে সমস্ত নাগরিক সেবার জন্য মাঠেরহাট ও এর আশেপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষকে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা সদর বা রংপুর জেলা শহরে ছুটতে হতো, তা এখন ঘরের পাশেই নিখুঁত ও দ্রুততার সাথে মিলছে এই প্রতিষ্ঠানে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আরকে অনলাইন সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই মিলছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন, ই-পাসপোর্টের আবেদন এবং জমির খতিয়ান বা ই-পর্চার মতো জটিল সব সরকারি সেবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি না থাকায় এবং সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সেবাগ্রহীতারা।
চাকরির আবেদন কিংবা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রেই আরকে অনলাইন সার্ভিস স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং নির্ভুলভাবে অনলাইন ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ও মার্কশিটও মুহূর্তের মধ্যে এখান থেকে সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে পরিণত হয়েছে। এখানে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা নিরাপদে তোলার ব্যবস্থা রয়েছে।
আরকে অনলাইন সার্ভিসের সফল উদ্যোক্তা রাফিউল ইসলাম রাব্বী বলেন- আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো মাঠেরহাট ও রানীপুকুর ইউনিয়নের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে শহরের মতো সব ডিজিটাল সেবা দেওয়া। ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের সময়, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ বাঁচানোই আমাদের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। গ্রাহকদের নিখুঁত সেবা ও তাদের মুখের সন্তুষ্টিই আমাদের পথচলার প্রেরণা।
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে রাফিউল ইসলাম রাব্বী-এর ‘আরকে অনলাইন সার্ভিস’-এর মতো তৃণমূল পর্যায়ের এমন উদ্যোগগুলো অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীসমাজ ও সচেতন মহল।