রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস (সূত্রহীন) মফিজার রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত ও চোর চক্রের মূল সদস্যসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, সিএনজি এবং চোরাই তামার কয়েলসহ বিপুল আলামত।
আজ ২৪ মে (২০২৬) রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় জেলা ডিবি এবং পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গত ২৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ জামিরুল ইসলাম (৩২), মোঃ আব্দুল জলিল (৩৮), মোঃ সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), আঃ ওয়াহাব ওরফে শফিকুল, মোঃ নূরুল আমিন (৬৮), মোঃ আনিছুর রহমান (৪০) এবং মোঃ আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫)। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা চুরির উদ্দেশ্যে বাদীর ভাই মফিজার রহমানকে (৪৬) নির্মমভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পর চুরি করা ৩টি ট্রান্সফর্মারের ভেতরের মূল্যবান তামার কয়েল, চুরির কাজে ব্যবহৃত ১টি নোয়া মাইক্রোবাস, ১টি সিএনজি এবং চুরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে পীরগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪/৩৭৯ ধারায় মামলাটি (মামলা নং-১৩) দায়ের করা হয়েছিল। কোনো ক্লু না থাকায় মামলাটির তদন্ত অত্যন্ত জটিল ছিল। বর্তমান পুলিশ সুপার রংপুরে যোগদানের পর এটিসহ মোট তিনটি বড় ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হলেন, যা জেলা পুলিশের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পীরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ঘটনা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
রাফিউল ইসলাম রাব্বি / এনভি