নিউজ ডেস্ক :
ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানীয় চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রামে “ঢাকা টু বেইজিং ফেলোশিপ” চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে আন্তর্জাতিক শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্ব বিকাশের এক নতুন দিগন্ত।
এই ফেলোশিপ চালু হলে কী কী লাভ হতে পারে?
১) দক্ষ মানবসম্পদ ও জ্ঞান স্থানান্তর :
চীন বর্তমানে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী শিল্পে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পাবে। ফলে তারা আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করে তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।
২) বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে :
রাষ্ট্রীয় কূটনীতির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলে দুই দেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
৩) আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন :
পিকিং বা সিংহুয়ার মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে ফেলোশিপ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। তারা আন্তর্জাতিক গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করতে সহায়ক হবে।
৪) উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন কৌশল শেখা :
বাংলাদেশ যেহেতু চীনের Belt and Road Initiative (BRI)-এর অংশ, তাই চীনের উন্নয়ন মডেল ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও স্মার্ট অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫) তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ :
একজন ডাকসু ভিপির হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন উদ্যোগ আসা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক পরিসরে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও দেশের স্বার্থ রক্ষার কৌশল সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে।
“ঢাকা টু বেইজিং ফেলোশিপ” শুধু একটি শিক্ষা উদ্যোগ নয়, বরং এটি হতে পারে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের নতুন এক সুযোগ।