নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজারঃ
২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে কক্সবাজার জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সামাজিক অবকাঠামো স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক এবং সহকারী প্রকৌশলী সাফায়াত ফারুক চৌধুরী জানান, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জেলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এছাড়া জেলাজুড়ে ৩টি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৮১ মিটার। পেকুয়া উপজেলার টইটন বাজারে একটি আধুনিক হাট-বাজার অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৬টি উপজেলায় ১৪টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণের সুবিধার্থে ৭৯টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়েছে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০টি ব্রীজ ও কালভার্ট সংস্কার করা হয়েছে।
পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকনাফ উপজেলার শাপলা গুদার খাল এলাকায় ১ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এছাড়া বাকখালী নদীর ওপর একটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আউয়ালের ছেলে জসিম বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে যেকোনো সময় গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন রাস্তা উন্নয়ন হওয়ায় আমরা সহজে এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছি।”
এদিকে টিম দৈনিক ঘোষণা সদ্য নির্মিত পেকুয়া উপজেলার টইটন হাটবাজারে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, “আগে এই বাজারের অবকাঠামো খুবই দুর্বল ছিল। বৃষ্টি হলে কাদা-পানির কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ত। নতুন করে হাট-বাজারের অবকাঠামো নির্মাণ হওয়ায় এখন ব্যবসায়ীরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন এবং ক্রেতাদের জন্যও পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে।”
এ বিষয়ে এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, “কক্সবাজার জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে এলজিইডি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চলমান এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”