নুরুল ইসলাম সুমন,কক্সবাজার
আলোচিত ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে এনে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে ‘মব সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রবণতা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সব ঘটনাকে মব সহিংসতা বলা ঠিক নয়; অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিচ্ছিন্ন অপরাধ। কোথাও যদি কাউকে আটক করে নির্যাতন করা হয়, সেটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অর্থে যদি কোথাও জনতা আইন হাতে তুলে নেয় বা গণউত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটি মব পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশে মব কালচার থাকার সুযোগ নেই এবং আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ারও সুযোগ নেই।
মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদক ব্যবসা, পরিবহন, প্রচার ও বাণিজ্য—সবকিছু বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক কারবারিদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ অনেক সময় এ ধরনের তালিকা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পেশাদার পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরে নতুন করে অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন চলতে না পারে সে বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা কোনো অপরাধীকে আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না; সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।