তানবীরুল ইসলাম,চকরিয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশায় বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এ মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার ৬ শত ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করেছেন উপজেলার কয়েক হাজার চাষি।
লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১৭ হাজার ৬ শত ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণের জন্য মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় লক্ষ্য বাস্তবায়নে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় বোরো ফলনের লক্ষ্যমাত্রা খুব সহজেই পূরণ হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
গবেষণায় দেখা গেছে,প্রায় ১০৮ জাতের বোরো ধানের চারা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ৭ জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন চাষিরা। এর মধ্যে রয়েছে- ব্রি-ধান ৮৮,৮৯,৯২,১০০,১০২, ১০৪ ও ১০৮। অনেকে আবার উপশী জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন কারণ এতে ফলন ভালো হয়। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকায় সঠিক সময়ে জমি তৈরি করতে পারছেন চাষিরা।
আগে ভাগেই ডিপ টিউবওয়েল ও ডিজেল মেশিনের পাম্প বসিয়ে,পানি দিয়ে রুক্ষ জমিতে বোরো ধান রোপণ করছেন চাষিরা।
সরেজমিন দেখা যায়,বরইতলী, কৈয়ারবিল,হারবাং,কোনাখালী,পূর্ব বড় ভেওলা,ডুলাহাজারা ইউনিয়নে পুরোদমে বোরের আবাদ শুরু করেছেন চাষিরা।
বরইতলী ইউনিয়নের শান্তি বাজার এলাকার চাষি জমির উদ্দিন বলেন,প্রতি একরে বোরো ধান চাষে খরচ হয় ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আমার জমি আাছে ১৫ শতাংশ। প্রতি বছরই আমি বোরো ধান বুনি। ভালোই লাভ হয় তাই এবারেও বোরে ধান লাগাব কিন্তু সারের দামটা বেশি। কম হলে ভালো হতো। খরচটা বেশি হয়ে যায়।
একই ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মোনাফ মনু বলেন,আমি ২০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান চাষ করছি। গতবার মোটামুটি ভালোই লাভ হয়েছে। তাই এবারও বোরো ধান চাষ করব। তবে সারের দামটা একটু কম থাকলে লাভ আরেকটু বেশি হতো। পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ,মেশিন দিয়ে পানি দিয়ে জমি তৈরি করতে অনেক খরচ হয়ে যায়। মজুর দিয়া চারা বুনি সেই মজুরিও অনেক। তারপরও আশা করি গেল বারের চেয়ে আরও ভালো ফলন হবে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন,আমরা উপজেলায় ১৭ হাজার ৬শত ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কঠোর শ্রম দিচ্ছেন। কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধা আমরা শুনছি এবং সার্বিক সহায়তা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন,আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগের থেকে ভালো ফলন আশা করা যায়। আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা তা খুব সহজেই পূরণ হবে।