সরকারি ৬২ লাখ টাকার বিল দখল নিয়ে উত্তপ্ত ধর্মপাশা: সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সরকারি ইজারাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী ডুবাইল বিলকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার, মাছ লুট, দখলদারিত্ব এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিস্থিতি। প্রায় ৬২ লাখ টাকা বার্ষিক রাজস্ব আদায় হওয়া এই জলমহালকে ঘিরে এবার বিরোধ গড়িয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ শহরের দৈনিক সুনামকণ্ঠ কার্যালয়ে জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত ২১ জুলাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল ইসলাম (বিএসসি) এবং সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাবের নেতৃত্বে ২০–২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দুটি নৌযান নিয়ে ডুবাইল বিলে প্রবেশ করে। তারা বিলের পাহারাদারদের মারধর, নৌকা ভাঙচুর এবং মাছ লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৪ জুলাই বিলে ইজারাদার ও সমিতির সদস্য মালেক সিকদার সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি নিরক্ষর হওয়ায় মানবিক কারণে তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুবদল কর্মী জহিরুল হক হীরা।
এর পরদিন ২৫ জুলাই অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে জহিরুল হক হীরাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘বহিরাগত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এর জবাবে রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল হক হীরা বলেন, “আমি ধর্মপাশার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। অথচ আজ যারা আমাকে ফ্যাসিস্ট বলছেন, তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় খতিয়ে দেখলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। জলমহাল দখল ও মাছ লুটের ঘটনা আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৮ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরকারি খাজনার রাজস্ব রশিদ নিয়ে ফেরার পথে আব্দুজ জহুর ব্রিজ এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জহিরুল হক হীরার পথরোধ করে। অস্ত্রের মুখে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এসব স্ট্যাম্প ভবিষ্যতে জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, সমিতির মূল অভিযোগকারী মালেক সিকদার দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে নিজ এলাকা ছেড়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থান করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তিনি এর আগে বিচার চেয়ে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। পাশাপাশি ডুবাইল বিলে চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা নং-০৩ (তারিখ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫) বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্ব ও সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জীবিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন।
তারা অবিলম্বে ডুবাইল বিলকে দখলমুক্ত করা, ছিনতাই হওয়া স্ট্যাম্প উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, সাধারণ সম্পাদক উসমান মিয়াসহ সমিতির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।























