ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আমরা প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি যমুনায় জাল চুরি সন্দেহে ধাওয়া পিটিয়ে ১ জনকে হত্যা আহত ২ বাংলাদেশের জেন-জি: দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক জাগরণ? প্যারিসে এফবিজেএর ‘জুলাই ডায়লগ স্মৃতি থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ফেনীর চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করেননি, এখনো মহাসচিব: সমাজকল্যাণমন্ত্রী কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মাদারীপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও জবাবদিহিতার দাবিতে সাবেক শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ যাত্রী নিহত, আহত ৫ নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুবি ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপস নয়: জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

হাসান মাহমুদ শুভ
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৫৮৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপস নয়: জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে যা ঘটেছে, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। ভারত বলছে এটি ছিল প্রশাসনিক ত্রুটি, পরে তা সংশোধনও করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে কেন প্রথমেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো?
একজন ব্যক্তি হিসেবে জাহেদ উর রহমানকে পছন্দ বা অপছন্দ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তার রাজনৈতিক অবস্থান, মতাদর্শ কিংবা অতীত বক্তব্য নিয়ে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে তিনি শুধু জাহেদ উর রহমান ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার একজন প্রতিনিধি।
যদি সত্যিই তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়ে থাকে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকে এবং পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—এ ধরনের “ভুল” কেন ঘটল? একজন উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি কর্মকর্তার সফর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই অবগত ছিল না কেন? আর যদি অবগত থেকেও এমনটা ঘটে থাকে, তাহলে সেটি কি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো সমস্যা রয়েছে?
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুমতি পাওয়ার পরও জাহেদ উর রহমানের ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত অভিমান বলতে পারেন, কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি আত্মমর্যাদার একটি বার্তা। কারণ মর্যাদা কেবল শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়ার মধ্যে নয়; মর্যাদা নির্ভর করে পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা সম্মানজনক ছিল তার উপর।
বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি—সবার মধ্যেই এই আত্মমর্যাদাবোধ থাকা প্রয়োজন। বিদেশ সফরে তারা ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাদের সঙ্গে আচরণের প্রশ্নে ব্যক্তিগত সুবিধা বা কূটনৈতিক সৌজন্যের চেয়ে জাতীয় মর্যাদার বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে।
তবে এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা। যদি সফর-সংক্রান্ত সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে তারও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সফর কেন এমন বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বে? দিল্লিতে বাংলাদেশের মিশন কি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
একইসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যাও আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার। “প্রশাসনিক ত্রুটি” একটি সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কী ধরনের ত্রুটি ছিল? কেন হয়েছিল? ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এসব প্রশ্নেরও সন্তোষজনক উত্তর থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। বন্ধুত্ব মানে আত্মসমর্পণ নয়, আবার বিরোধও নয়। বন্ধুত্বের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হলো একে অপরের মর্যাদাকে সম্মান করা।
ডা. জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু যদি তিনি সত্যিই মনে করে থাকেন যে তার সঙ্গে এবং সেই সূত্রে বাংলাদেশের মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত আচরণ করা হয়েছে, তাহলে প্রতিবাদ হিসেবে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আত্মমর্যাদার প্রকাশ হিসেবে দেখবেন।
রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই আত্মসম্মানবোধ যত শক্তিশালী হবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানও তত দৃঢ় হবে। কারণ একটি দেশের শক্তি শুধু তার অর্থনীতি বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং তার প্রতিনিধিরা কতটা মাথা উঁচু করে নিজেদের দেশের মর্যাদা রক্ষা করতে পারেন, তার উপরও নির্ভর করে।

লেখক:
নাকিবুর রহমান সরকার
শিক্ষার্থী
মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা, বাংলাদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপস নয়: জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময় : ১০:২৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপস নয়: জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে যা ঘটেছে, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। ভারত বলছে এটি ছিল প্রশাসনিক ত্রুটি, পরে তা সংশোধনও করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে কেন প্রথমেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো?
একজন ব্যক্তি হিসেবে জাহেদ উর রহমানকে পছন্দ বা অপছন্দ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তার রাজনৈতিক অবস্থান, মতাদর্শ কিংবা অতীত বক্তব্য নিয়ে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে তিনি শুধু জাহেদ উর রহমান ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার একজন প্রতিনিধি।
যদি সত্যিই তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়ে থাকে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে থাকে এবং পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—এ ধরনের “ভুল” কেন ঘটল? একজন উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি কর্মকর্তার সফর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই অবগত ছিল না কেন? আর যদি অবগত থেকেও এমনটা ঘটে থাকে, তাহলে সেটি কি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো সমস্যা রয়েছে?
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুমতি পাওয়ার পরও জাহেদ উর রহমানের ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত অভিমান বলতে পারেন, কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি আত্মমর্যাদার একটি বার্তা। কারণ মর্যাদা কেবল শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়ার মধ্যে নয়; মর্যাদা নির্ভর করে পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা সম্মানজনক ছিল তার উপর।
বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি—সবার মধ্যেই এই আত্মমর্যাদাবোধ থাকা প্রয়োজন। বিদেশ সফরে তারা ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাদের সঙ্গে আচরণের প্রশ্নে ব্যক্তিগত সুবিধা বা কূটনৈতিক সৌজন্যের চেয়ে জাতীয় মর্যাদার বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে।
তবে এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা। যদি সফর-সংক্রান্ত সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে তারও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সফর কেন এমন বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বে? দিল্লিতে বাংলাদেশের মিশন কি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
একইসঙ্গে ভারতের ব্যাখ্যাও আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার। “প্রশাসনিক ত্রুটি” একটি সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কী ধরনের ত্রুটি ছিল? কেন হয়েছিল? ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এসব প্রশ্নেরও সন্তোষজনক উত্তর থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। বন্ধুত্ব মানে আত্মসমর্পণ নয়, আবার বিরোধও নয়। বন্ধুত্বের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হলো একে অপরের মর্যাদাকে সম্মান করা।
ডা. জাহেদ উর রহমানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু যদি তিনি সত্যিই মনে করে থাকেন যে তার সঙ্গে এবং সেই সূত্রে বাংলাদেশের মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত আচরণ করা হয়েছে, তাহলে প্রতিবাদ হিসেবে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আত্মমর্যাদার প্রকাশ হিসেবে দেখবেন।
রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই আত্মসম্মানবোধ যত শক্তিশালী হবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানও তত দৃঢ় হবে। কারণ একটি দেশের শক্তি শুধু তার অর্থনীতি বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, বরং তার প্রতিনিধিরা কতটা মাথা উঁচু করে নিজেদের দেশের মর্যাদা রক্ষা করতে পারেন, তার উপরও নির্ভর করে।

লেখক:
নাকিবুর রহমান সরকার
শিক্ষার্থী
মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা, বাংলাদেশ