মো: বেলাল হোসেন পাটোয়ারী :
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, শেয়ার ও ভিউয়ের প্রতিযোগিতায় অনেকেই নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর, অশালীন ও ভ্রান্ত তথ্যভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরি করছেন।যাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো এসব ভিউয়ের মাধ্যমে অনলাইনে অর্থ আয় করা।শিশু থেকে যুবক কিংবা বয়স্ক সবাই এই ভয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত।
বিশেষকরে তরুণ প্রজন্ম এই ধরনের কন্টেন্ট দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অবাস্তব জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, যা মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ,ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, ভুয়া খবর,ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী করছে।এক সময় যখন পাড়ার ছেলেরা নৈতিক শিক্ষা ও পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা করতো তারা বর্তমানে এই ভয়াল কন্টেন্ট তৈরীতে সময় পার করছে।যার কারণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অনেক অভিভাবকরা বলছেন, শিশু ও কিশোররা মোবাইল ফোন ও সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি তারা নেতিবাচক ভাষা ও আচরণ অনুকরণ করছে, যা পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সামাজবিজ্ঞানী ও বিভিন্ন বিশ্লেষকদের মতে,শিশুদের ব্রেইনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে ডিজিটাল ডিভাইস।যা তাদের মস্তিষ্কের গ্রোথ ও বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম সামাজিক মূল্যবোধ,দেশীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থী বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। তারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী নীতিমালা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিকর কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে সমাজে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে , যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইতিবাচক ও শিক্ষামূলক কন্টেন্টের দিকে পরিচালিত করা যায় এবং সমাজকে নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।