ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামুতে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি’র সভায় বক্তারা:শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদারের দাবী  জুলাই শহীদদের স্মরণে কুবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমা ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি সরকার পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী মাদারীপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে জাবিতে ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আয়োজন নবীন বিতার্কিক তৈরির লক্ষ্যে কুবি ডিবেটিং সোসাইটির কর্মশালা মানবিক শওকত হোসেনের উদ্যোগে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত ১৫ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর উদ্যোগে চকরিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ প্রজ্ঞাপনে পদ নেই সনদে সাল পরিবর্তন:ইসলামপুর মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে তোলপাড়

সংসদে হিজাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রীসংস্থার নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জাতীয় সংসদে বোরকা-হিজাব পরিহিত নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর কটূক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। একইসঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেত্রীবৃন্দ বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো নারী তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে পরিধান করা বোরকা বা নিকাবের কারণে কটাক্ষের শিকার হবেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বোরকা-হিজাব মুসলিম নারীদের জন্য কেবল একটি পোশাক নয়; এটি তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় পরিচয়, মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা আরও বলেন, ‘বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার ও নারীর অংশগ্রহণের প্রশ্নকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে এসেছে। অথচ জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভায় নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মানুরাগী নারীদের পোশাককে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সেই বক্তব্যে তাদের দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া গভীর দ্বিচারিতার পরিচয় বহন করে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারীর স্বাধীনতার অর্থ কখনোই নির্দিষ্ট জীবনধারা বা পোশাককে গ্রহণ করা নয়; বরং প্রত্যেক নারীর নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের অগণিত নারী বোরকা, হিজাব বা নিকাব পরিধান করেন। জাতীয় সংসদে এমন মন্তব্য কার্যত তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং তাদের সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সমাজের বিভিন্ন স্তরে হিজাবি ও নিকাবি নারীরা যে বৈষম্য, কটূক্তি ও বাধার সম্মুখীন হন, সংসদে প্রদত্ত এই বক্তব্য সেই নেতিবাচক প্রবণতাকেই উৎসাহিত করবে। এটি কেবল কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নয়, বরং সমগ্র নারীসমাজকে অসম্মান করার নামান্তর।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সকল জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে সংগঠনটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংসদে হিজাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রীসংস্থার নিন্দা

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জাতীয় সংসদে বোরকা-হিজাব পরিহিত নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর কটূক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। একইসঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেত্রীবৃন্দ বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো নারী তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে পরিধান করা বোরকা বা নিকাবের কারণে কটাক্ষের শিকার হবেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বোরকা-হিজাব মুসলিম নারীদের জন্য কেবল একটি পোশাক নয়; এটি তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় পরিচয়, মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

ছাত্রীসংস্থার নেত্রীরা আরও বলেন, ‘বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার ও নারীর অংশগ্রহণের প্রশ্নকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে এসেছে। অথচ জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভায় নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মানুরাগী নারীদের পোশাককে বিদ্রূপ করা হয়েছে। সেই বক্তব্যে তাদের দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া গভীর দ্বিচারিতার পরিচয় বহন করে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নারীর স্বাধীনতার অর্থ কখনোই নির্দিষ্ট জীবনধারা বা পোশাককে গ্রহণ করা নয়; বরং প্রত্যেক নারীর নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের অগণিত নারী বোরকা, হিজাব বা নিকাব পরিধান করেন। জাতীয় সংসদে এমন মন্তব্য কার্যত তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং তাদের সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সমাজের বিভিন্ন স্তরে হিজাবি ও নিকাবি নারীরা যে বৈষম্য, কটূক্তি ও বাধার সম্মুখীন হন, সংসদে প্রদত্ত এই বক্তব্য সেই নেতিবাচক প্রবণতাকেই উৎসাহিত করবে। এটি কেবল কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নয়, বরং সমগ্র নারীসমাজকে অসম্মান করার নামান্তর।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সকল জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে সংগঠনটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।