ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামী ব্যাংকের সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে–নবনিযুক্ত প্রশাসক মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেশ ও মানবতার কল্যাণে গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : তথ্যমন্ত্রী দিল্লি এয়ারপোর্টে হয়রানির পর শ্রীলঙ্কা হয়ে দেশে ফিরেছেন ডা. জাহেদ নানক-তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তার জনকল্যাণমূলক ১১ প্রতিষ্ঠানের অনুদানে আয়কর অব্যাহতি, প্রজ্ঞাপন জারি ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, সংসদে হৈচৈ নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের বাসে আগুন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়ন পেলেন মোঃ নূরুল হাফিজ

মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন

নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে’ বলে সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি।
এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। মন্ত্রী মহোদয়কে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো হয়’।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল, ভেন্টিলেশন সমস্যা, শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ১৩ জুন নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুস দিতে হয় না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আজ আদ-দ্বীনের পক্ষে কথা বলেন।’

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে ঘুরবো? যদি মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলে থাকেন তাকেই সেটি প্রমাণ দিতে হবে। আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি।’

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, এক্সপার্ট টিমের মতামতের ভিত্তিতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। পরামর্শক দলে রয়েছেন একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের পর্যবেক্ষণে মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল ভেন্টিলেশন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা।

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও অক্সিজেন পরিমাপের যন্ত্র কিনেছে। এসব যন্ত্র দিয়ে প্রতিটি রুম পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো রুমেই উল্লেখযোগ্য ডেভিয়েশন (বিচ্যুতি) পাওয়া যায়নি।

মহিউদ্দিন বলেন, বাইরের বায়ুমণ্ডলের তুলনায় ভেতরের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ বাসাবাড়িতেও দেখা যায়। তবে এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার বাইরে নয়। তারপরও রোগীদের কমফোর্ট লেভেল বাড়াতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা আরও কমিয়ে বাইরের এটমোসফেরিক লেভেলের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী রুমগুলোতে পজিটিভ এয়ার প্রেসার দেওয়া হচ্ছে, যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বের হয়ে যায়। ইতোমধ্যে শিশু ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাজ শেষ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, যে ওয়ার্ডটি কর্তৃপক্ষ সিলগালা করেছে, সেটির চাবি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত চাবি পাওয়া গেলে ওই অংশের সংস্কার কাজও শুরু করা যাবে।

হাসপাতালের ওপরের তলায় থাকা বেকারি নিয়েও কথা বলেন মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, বেকারিটির লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল না। তারপরও সরকারের আপত্তির কারণে আপাতত সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে কর্মরত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিকের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বেকারিটি অন্যত্র স্থানান্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে বিভিন্ন ইউনিটে ৬০ জন ক্রিটিকাল রোগী আছে। তাই তাদের স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আবেদনপত্র প্রস্তুত হয়েছে এবং শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে।

শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি প্রতিবেদনে ভেন্টিলেশনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এক্সপার্টদের মতে, বর্তমানে যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা শিশু মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো নয়।

তিনি বলেন, নবজাতক শিশুদের শারীরিক সহনশীলতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্ন। অক্সিজেন কমে যাওয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনের প্রতি তারা অনেক বেশি সংবেদনশীল। এ কারণেই বিষয়টি জটিল।

সরকারের কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সরকার থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আদ্-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে’ বলে সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি।
এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। মন্ত্রী মহোদয়কে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো হয়’।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল, ভেন্টিলেশন সমস্যা, শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ১৩ জুন নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুস দিতে হয় না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আজ আদ-দ্বীনের পক্ষে কথা বলেন।’

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে ঘুরবো? যদি মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলে থাকেন তাকেই সেটি প্রমাণ দিতে হবে। আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি।’

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বলেন, এক্সপার্ট টিমের মতামতের ভিত্তিতে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। পরামর্শক দলে রয়েছেন একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের পর্যবেক্ষণে মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল ভেন্টিলেশন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা।

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও অক্সিজেন পরিমাপের যন্ত্র কিনেছে। এসব যন্ত্র দিয়ে প্রতিটি রুম পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো রুমেই উল্লেখযোগ্য ডেভিয়েশন (বিচ্যুতি) পাওয়া যায়নি।

মহিউদ্দিন বলেন, বাইরের বায়ুমণ্ডলের তুলনায় ভেতরের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ বাসাবাড়িতেও দেখা যায়। তবে এটি গ্রহণযোগ্য মাত্রার বাইরে নয়। তারপরও রোগীদের কমফোর্ট লেভেল বাড়াতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা আরও কমিয়ে বাইরের এটমোসফেরিক লেভেলের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী রুমগুলোতে পজিটিভ এয়ার প্রেসার দেওয়া হচ্ছে, যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রুত বের হয়ে যায়। ইতোমধ্যে শিশু ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের কাজ শেষ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, যে ওয়ার্ডটি কর্তৃপক্ষ সিলগালা করেছে, সেটির চাবি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত চাবি পাওয়া গেলে ওই অংশের সংস্কার কাজও শুরু করা যাবে।

হাসপাতালের ওপরের তলায় থাকা বেকারি নিয়েও কথা বলেন মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, বেকারিটির লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল না। তারপরও সরকারের আপত্তির কারণে আপাতত সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে কর্মরত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিকের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বেকারিটি অন্যত্র স্থানান্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে বিভিন্ন ইউনিটে ৬০ জন ক্রিটিকাল রোগী আছে। তাই তাদের স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আবেদনপত্র প্রস্তুত হয়েছে এবং শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে।

শিশু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি প্রতিবেদনে ভেন্টিলেশনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের এক্সপার্টদের মতে, বর্তমানে যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা শিশু মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো নয়।

তিনি বলেন, নবজাতক শিশুদের শারীরিক সহনশীলতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্ন। অক্সিজেন কমে যাওয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনের প্রতি তারা অনেক বেশি সংবেদনশীল। এ কারণেই বিষয়টি জটিল।

সরকারের কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সরকার থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। তবে সমস্যাগুলো সমাধান করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।