ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টঙ্গীতে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি ব্যক্তিগত আক্রোশে পদবঞ্চিতের অভিযোগ ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে দশক পূর্তিতে ইবি মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ যশোরের শার্শায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত পরীক্ষা চলাকালীন এলো জীবনের স্মরণীয় খবর—বৃত্তি পেয়ে উচ্ছ্বসিত দুই শিক্ষার্থী কমিটিতে জায়গা না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকির অভিযোগ টঙ্গীতে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযানে অপহরণচক্রের মূলহোতা গ্রেফতার নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে ১১ বিজিবি ইবিতে আল হাদীস বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের বিদায় রাউজানের ডাবুয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান

ব্যক্তিগত আক্রোশে পদবঞ্চিতের অভিযোগ ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরূদ্ধে শিবির ট্যাগ ও পদবঞ্চিত-সহ নানা অভিযোগ তোলে বিচারের দাবিতে মডারেটর বরাবর আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তিনি আইইউডিএস-এর সদস্য ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিশুক শাহরিয়ার।

রবিবার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মডারেটর প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান বরাবর নানা অভিযোগ নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আবেদন করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও মিশুককে কমিটিতে রাখা হয়নি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্বাচনকালীন উপদেষ্টামণ্ডলীর সিদ্ধান্ত ছিল, সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা পরবর্তী কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু তিনি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বিপরীতে হল কমিটির অফিশিয়াল সদস্য নন, এমন ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সভাপতি ইয়াছিন আলী তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এছাড়া শিবিরের আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দল নিবন্ধন করায় তাদেরকে ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দেওয়া ও অন্যায্যভাবে শোকজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে অভিযোগ করেন, আইইউডিএসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সভাপতি কোনো হল কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। কিন্তু ইয়াছিন আলী নিজে লালন শাহ হল কমিটির সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে হল প্রভোস্টের কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে তাকে বিভিন্ন সময় জেরা ও মানসিক হেনস্তা করা হয়। হলের বিতর্ক কক্ষের তালা বদলে বিতর্কের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অভিযোগও করেন সভাপতির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী অভিযোগসমূহ হলো- কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থেকেও তাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা ও হল কমিটির দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, শিবিরের ডিবেটে রেজিষ্ট্রেশন করায় তার টিমকে হুমকি প্রদান, শিবিরের ডিবেটে রেজিষ্ট্রেশন করায় অযৌক্তিক শোকজ নোটিশ দিয়ে মানহানি করা, ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ ও জেরা করার মাধ্যমে হয়রানি, জুনিয়রদের কাছে মিথ্যা কথা বলে মানহানি ও তাদের মধ্যাকার সম্পর্ক নষ্ট, প্রভোস্টের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি করা, শিবিরের ডিবেট কমিটির সদস্যের কাছে অপ্রীতিকর তথ্য প্রদান করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা, তাকে অনবরত মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির কমিটিতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভুক্তভোগীকে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা।

এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে মিশুক শাহরিয়ার বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে যোগ্য বিতার্কিকদের মাইনাস ফর্মুলার মাধ্যমে দূরে রাখার অপচেষ্টা চলছে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই। আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানির বিচার চাই। এসময় তিনি ইবি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টামন্ডলীর নির্বাচনকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির পুনর্গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, যে সকল অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ তাকে দেওয়া হয়নি। শিবিরের ডিবেটের রেজিস্ট্রেশন করায় টিমকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সংগঠনের সভাপতিকে অবগত না করে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্টের মতো কাজ করায় শোকজ দেওয়া হয়েছিলো। এ বিষয়ে উপদেষ্টামন্ডলীর সাথে বসে সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিবিরের ডিবেটের রেজিস্ট্রেশন করায় তার টিমকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রোভোস্টের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হয়নি। এছাড়া ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপে আমার কোনো অধিকার নেই। এটি আমি কেন করব।

সংগঠনটির মডারেটর প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান বলেন, আমি তার অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেছি। আমি তার সাথে কথা বলব। আরো একটা মেয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। সেটাও গ্রহণ করেছি। পরবর্তী সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্যক্তিগত আক্রোশে পদবঞ্চিতের অভিযোগ ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরূদ্ধে শিবির ট্যাগ ও পদবঞ্চিত-সহ নানা অভিযোগ তোলে বিচারের দাবিতে মডারেটর বরাবর আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। তিনি আইইউডিএস-এর সদস্য ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিশুক শাহরিয়ার।

রবিবার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মডারেটর প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান বরাবর নানা অভিযোগ নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আবেদন করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও মিশুককে কমিটিতে রাখা হয়নি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্বাচনকালীন উপদেষ্টামণ্ডলীর সিদ্ধান্ত ছিল, সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা পরবর্তী কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু তিনি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বিপরীতে হল কমিটির অফিশিয়াল সদস্য নন, এমন ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সভাপতি ইয়াছিন আলী তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এছাড়া শিবিরের আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দল নিবন্ধন করায় তাদেরকে ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দেওয়া ও অন্যায্যভাবে শোকজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে অভিযোগ করেন, আইইউডিএসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সভাপতি কোনো হল কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। কিন্তু ইয়াছিন আলী নিজে লালন শাহ হল কমিটির সভাপতি হওয়ার উদ্দেশ্যে হল প্রভোস্টের কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আপত্তিকর তথ্য দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে তাকে বিভিন্ন সময় জেরা ও মানসিক হেনস্তা করা হয়। হলের বিতর্ক কক্ষের তালা বদলে বিতর্কের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অভিযোগও করেন সভাপতির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী অভিযোগসমূহ হলো- কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থেকেও তাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা ও হল কমিটির দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, শিবিরের ডিবেটে রেজিষ্ট্রেশন করায় তার টিমকে হুমকি প্রদান, শিবিরের ডিবেটে রেজিষ্ট্রেশন করায় অযৌক্তিক শোকজ নোটিশ দিয়ে মানহানি করা, ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ ও জেরা করার মাধ্যমে হয়রানি, জুনিয়রদের কাছে মিথ্যা কথা বলে মানহানি ও তাদের মধ্যাকার সম্পর্ক নষ্ট, প্রভোস্টের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি করা, শিবিরের ডিবেট কমিটির সদস্যের কাছে অপ্রীতিকর তথ্য প্রদান করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা, তাকে অনবরত মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির কমিটিতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভুক্তভোগীকে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা।

এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে মিশুক শাহরিয়ার বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে যোগ্য বিতার্কিকদের মাইনাস ফর্মুলার মাধ্যমে দূরে রাখার অপচেষ্টা চলছে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই। আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও মানহানির বিচার চাই। এসময় তিনি ইবি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টামন্ডলীর নির্বাচনকালীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির পুনর্গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, যে সকল অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ তাকে দেওয়া হয়নি। শিবিরের ডিবেটের রেজিস্ট্রেশন করায় টিমকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সংগঠনের সভাপতিকে অবগত না করে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্টের মতো কাজ করায় শোকজ দেওয়া হয়েছিলো। এ বিষয়ে উপদেষ্টামন্ডলীর সাথে বসে সমাধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিবিরের ডিবেটের রেজিস্ট্রেশন করায় তার টিমকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রোভোস্টের কাছে তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হয়নি। এছাড়া ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপে আমার কোনো অধিকার নেই। এটি আমি কেন করব।

সংগঠনটির মডারেটর প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান বলেন, আমি তার অভিযোগ পত্র গ্রহণ করেছি। আমি তার সাথে কথা বলব। আরো একটা মেয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। সেটাও গ্রহণ করেছি। পরবর্তী সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।