ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী তুললেন বিএনপির এমপি রফিকুল ইসলাম বিরোধীদলীয় নেতার রহস্যময় ‘১০ কেজির সারপ্রাইজ’ প্যাকেট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সরগরম চকরিয়ায় নিউরোসার্জন ডা. শামসুল ইসলাম খান, ২২ জুন রোগী দেখবেন জমজম হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক এমপি পুত্র ও যুবদল নেতা সজীবকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৩০ জুন শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা এবং শ্রমিকদের হয়রানি-নির্যাতনের ইস্যুতে দুই প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক আলোচনা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অনন্য ভুমিকা পালনে পুরস্কৃত ইন্সপেক্টর মো. মাসুদ মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল এক কৃষকের দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফর, প্রথম বার্তা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

বিরোধীদলীয় নেতার রহস্যময় ‘১০ কেজির সারপ্রাইজ’ প্যাকেট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সরগরম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সবার কাছে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ‘১০ কেজি সারপ্রাইজ’ প্যাকেট বিতরণ নিয়ে সংসদ ভবন থেকে সোস্যাল মিডিয়া বেশ সরগরম।

জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার (২২ জুন) দেখা গেল এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য। কোনো রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বা আইন পাসের ব্যস্ততা নয়, বরং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের একটি ‘সারপ্রাইজ’ উপহার ঘিরে মুখরিত ছিল গোটা সংসদ সচিবালয়।

সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্য (এমপি) থেকে শুরু করে সংসদ সচিবালয়ের সকল শ্রেণির কর্মকর্তা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও পেয়েছেন এই বিশেষ উপহার। প্রত্যেকের হাতে বা ডেস্কে পৌঁছে গেছে ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।

জানা গেছে, সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে কৌতূহল ছিল, কী আছে এই ১০ কেজির প্যাকেটে? সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মৌসুমি সুস্বাদু ফল (প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আম)। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দফতরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতার অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাদ যাননি কেউ, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত ভিআইপিরাই বিভিন্ন উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উপহার পেয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন অফিস সহায়ক বলেন, আমরা তো ছোট চাকরি করি, বড় বড় নেতাদের উপহার শুধু দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে আমাদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।

বাংলাদেশের চেনা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলে না, সেখানে ড. শফিকুর রহমানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্য জানান, রাজনীতি মাঠে থাকবে, কিন্তু সংসদের ভেতরে এই ধরনের সৌজন্যতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। ড. শফিকুর রহমান সব স্তরের কর্মচারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করলেন, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ড. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও মানবিক নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। আজকের এই উপহার বিতরণ কেবল কোনো বস্তুগত লেনদেন নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি সব পক্ষকে সাথে নিয়ে চলার এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে মূল্যায়নের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিরোধীদলীয় নেতার রহস্যময় ‘১০ কেজির সারপ্রাইজ’ প্যাকেট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সরগরম

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সবার কাছে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ‘১০ কেজি সারপ্রাইজ’ প্যাকেট বিতরণ নিয়ে সংসদ ভবন থেকে সোস্যাল মিডিয়া বেশ সরগরম।

জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার (২২ জুন) দেখা গেল এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী দৃশ্য। কোনো রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বা আইন পাসের ব্যস্ততা নয়, বরং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের একটি ‘সারপ্রাইজ’ উপহার ঘিরে মুখরিত ছিল গোটা সংসদ সচিবালয়।

সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্য (এমপি) থেকে শুরু করে সংসদ সচিবালয়ের সকল শ্রেণির কর্মকর্তা ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও পেয়েছেন এই বিশেষ উপহার। প্রত্যেকের হাতে বা ডেস্কে পৌঁছে গেছে ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।

জানা গেছে, সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে কৌতূহল ছিল, কী আছে এই ১০ কেজির প্যাকেটে? সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মৌসুমি সুস্বাদু ফল (প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আম)। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দফতরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতার অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাদ যাননি কেউ, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত ভিআইপিরাই বিভিন্ন উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উপহার পেয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন অফিস সহায়ক বলেন, আমরা তো ছোট চাকরি করি, বড় বড় নেতাদের উপহার শুধু দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে আমাদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।

বাংলাদেশের চেনা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলে না, সেখানে ড. শফিকুর রহমানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্য জানান, রাজনীতি মাঠে থাকবে, কিন্তু সংসদের ভেতরে এই ধরনের সৌজন্যতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। ড. শফিকুর রহমান সব স্তরের কর্মচারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করলেন, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ড. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও মানবিক নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। আজকের এই উপহার বিতরণ কেবল কোনো বস্তুগত লেনদেন নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি সব পক্ষকে সাথে নিয়ে চলার এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে মূল্যায়নের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিলেন।