পেকুয়ার বারবাকিয়ায় চোরের তাণ্ডব, আতঙ্কে এলাকাবাসী; ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ওসির
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরির ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভারুয়াখালী এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বসতবাড়ির রান্নার তরকারি পর্যন্ত চুরি হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগের পরও চুরির ঘটনা কমছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারুয়াখালীর এক যুবক জানান, গত ৮ জুন রাতে তার বাড়ির গ্যারেজ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি হয়। এর পরের রাতেই তার বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে একই বাড়ি থেকে আরও একটি অটোরিকশা চুরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, “এক সময় এলাকার যুবকদের উদ্যোগে রাতের পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তখন চুরি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু পাহারা বন্ধ হওয়ার পর আবারও চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে চুরি হয়নি। কারা এসব করছে, এলাকাবাসীর অনেকেই জানে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
একই এলাকার এক নারী জানান, তার দিনমজুর ছেলে কষ্ট করে একটি মোবাইল ফোন কিনেছিল। সেটিও চোরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে পাশের এক প্রবাসীর বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে রান্না করা তরকারিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।
এ সময় তার পাশে থাকা বৃদ্ধা মা আক্ষেপ করে বলেন, “এক কথায় বলতে গেলে আমরা ভালো নেই।”
চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়িয়াখালী এলাকার বাসিন্দা লোকমান হাকিম ফেসবুকে লিখেছেন, এলাকায় যেভাবে চুরি বাড়ছে, তাতে জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বারবাকিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, “প্রতিদিন চুরির ঘটনা ঘটছে। আমরা বসে নেই। চোর ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করছি। পুলিশ অনেককে আটকও করছে। কিন্তু কিছুদিন পর তারা জামিনে বা সাজা ভোগ শেষে বের হয়ে এসে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে আমরা কার্যত চোর-পুলিশ খেলায় আটকে গেছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান নুরুল ইসলাম সুমনকে বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। তবে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকসেবী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং চুরি মামলার সাজাপ্রাপ্ত বা জামিনে থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুরো পেকুয়া উপজেলায় চুরির উপদ্রব কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত্রিকালীন পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”






















