ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎সরকারি ৬২ লাখ টাকার বিল দখল নিয়ে উত্তপ্ত ধর্মপাশা: সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ “জাবিতে ‘Decoding Time’ শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে অতীত অনুসন্ধানের অনন্য প্রদর্শনী” চুপ্পুকে সেফ এক্সিট দিতে চায় বিএনপি: আখতার হোসেন কুবির বিজয়-২৪ হলে ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম স্মৃতি মেডিকেল বক্স’ স্থাপন কুবি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিবেটিং এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রামুতে পিএফজি ও ওয়াইপিএজি’র সভায় বক্তারা:শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদারের দাবী  জুলাই শহীদদের স্মরণে কুবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমা ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি সরকার পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী মাদারীপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

পাহাড়-ঝর্ণার টানে পর্যটক, অসচেতন ভ্রমণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা!- মাহাবুব কাউসার

মাহাবুব কাউসার ,উন্নয়নকর্মী
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বর্ষা মৌসুম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। টানা বৃষ্টির জলে পাহাড়-পর্বত সবুজে মোড়ানো হয়ে ওঠে, আর ঝর্ণাগুলো পায় তাদের পূর্ণ রূপ গর্জনধ্বনিতে নেমে আসে পাহাড় বেয়ে সাদা ফেনার স্রোত। এই সময়টিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে পাহাড়ি এলাকা ও ঝর্ণা ভ্রমণের প্রতি এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে, প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে এবং ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই দল বেঁধে কিংবা একাকী এসব স্থানে ভ্রমণে বের হন।

তবে বর্ষা মৌসুম ঘিরে দেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সহ অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল গুলোতে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষাকালে এসব পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ করতে গিয়ে বহু পর্যটক পিচ্ছিল পথ, আকস্মিক পাহাড়ধ্বস ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে আহত হন; কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে বান্দরবানের বিভিন্ন ঝর্ণা, রাঙামাটির পাহাড়ি ট্রেইল এবং খাগড়াছড়ির দুর্গম দর্শনীয় স্থানগুলোতে অতিবৃষ্টির সময় ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

জানা যায়, আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ, স্থানীয় গাইড ছাড়া দুর্গম পথে যাত্রা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানার প্রবণতাই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন, পর্যটন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, কিছু ঝর্ণা ও ট্রেইলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিলেও তা যথাযথ নয়। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রস্তুত রাখাও অতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণ করা, অনুমোদিত পথ ব্যবহার করা, লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার নির্দেশনা প্রদান ও তা সঠিকভাবে তদারকি করাও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে পার্বত্য অঞ্চলে দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে ধারণা করেন পর্যটনশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

-মাহাবুব কাউসার
উন্নয়নকর্মী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাহাড়-ঝর্ণার টানে পর্যটক, অসচেতন ভ্রমণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা!- মাহাবুব কাউসার

আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বর্ষা মৌসুম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। টানা বৃষ্টির জলে পাহাড়-পর্বত সবুজে মোড়ানো হয়ে ওঠে, আর ঝর্ণাগুলো পায় তাদের পূর্ণ রূপ গর্জনধ্বনিতে নেমে আসে পাহাড় বেয়ে সাদা ফেনার স্রোত। এই সময়টিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে পাহাড়ি এলাকা ও ঝর্ণা ভ্রমণের প্রতি এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে, প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে এবং ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই দল বেঁধে কিংবা একাকী এসব স্থানে ভ্রমণে বের হন।

তবে বর্ষা মৌসুম ঘিরে দেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সহ অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল গুলোতে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষাকালে এসব পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ করতে গিয়ে বহু পর্যটক পিচ্ছিল পথ, আকস্মিক পাহাড়ধ্বস ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে আহত হন; কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে বান্দরবানের বিভিন্ন ঝর্ণা, রাঙামাটির পাহাড়ি ট্রেইল এবং খাগড়াছড়ির দুর্গম দর্শনীয় স্থানগুলোতে অতিবৃষ্টির সময় ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

জানা যায়, আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ, স্থানীয় গাইড ছাড়া দুর্গম পথে যাত্রা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানার প্রবণতাই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন, পর্যটন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, কিছু ঝর্ণা ও ট্রেইলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিলেও তা যথাযথ নয়। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রস্তুত রাখাও অতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণ করা, অনুমোদিত পথ ব্যবহার করা, লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম বহন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার নির্দেশনা প্রদান ও তা সঠিকভাবে তদারকি করাও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

পর্যটকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে পার্বত্য অঞ্চলে দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে ধারণা করেন পর্যটনশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

-মাহাবুব কাউসার
উন্নয়নকর্মী