ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎সুনামগঞ্জে ‘নাগরিক তথ্য অধিকার ফোরাম’ জেলা কমিটির আত্মপ্রকাশ ‎ যতদিন জামায়াত থাকবে ততদিন আ’লীগ থাকবে-ফরহাদ মাজহার গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে কুবি উপাচার্যের কাছে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি ইবিতে ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগের ফ্যাসিস্ট যা করে গেছে, বিএনপি হুবহু তার ফটোকপি করছেন -ডা: শফিকুর রহমান কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্যের উদ্যোগে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষচারা বিতরণ সোনালী বাজার পরিচালনা কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন চকরিয়ার পুত্রবধূ ব্যারিস্টার এলিনা চৌধুরীর নতুন সাফল্য নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে ইবি শিক্ষার্থীরা এগিয়ে; ইবি উপাচার্য

দিনে ব্যাংকের কর্মী, রাতে চায়ের দোকান—ক্লান্তিকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলা এক মানুষের গল্প

তফসিরুল করিম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কেতলিতে ফুটতে থাকা চায়ের টগবগ শব্দ আর ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের সুবাসে সন্ধ্যা নামতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় সোহরাবের ছোট্ট দোকান। একে একে ভিড় জমান শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কারও হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা, কারও মুখে দিনের গল্প, আবার কেউ ব্যস্ত রাজনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আলোচনা নিয়ে। ছোট্ট এই দোকানটি যেন সন্ধ্যার পরিণত হয় এক টুকরো আড্ডাঘরে, যেখানে চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে ভাগাভাগি হয় হাসি, অভিমান আর জীবনের নানা গল্প। আর সেই গল্পগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকেন সোহরাব

কিন্তু এই ব্যস্ত দোকানের পেছনের গল্পটা ঠিক ততটাই উষ্ণ, যতটা কেতলিতে ফুটতে থাকা চা। আড্ডায় মুখর মানুষগুলোর জন্য একের পর এক চায়ের কাপ তৈরি করতে থাকলেও, নিজের জীবনের গল্প নিয়ে খুব একটা কথা বলেন না সোহরাব। হাসিমুখে সবার চা এগিয়ে দেন, খোঁজখবর নেন, অথচ তার নিজের দিনটা কেটেছে টানা কর্মব্যস্ততায়।

সকালে শুরু হয় তার প্রথম কর্মদিবস। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জনতা ব্যাংকে মাস্টাররোল কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও আজও মেলেনি স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা। সীমিত বেতনে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় একটি পেশা।

অফিস শেষে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। সন্ধ্যা নামতেই চলে আসেন  নিজের ছোট্ট চায়ের দোকানে। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন ক্রেতাদের চা পরিবেশনে। সারাদিনের ক্লান্তি, শারীরিক অবসাদ কিংবা ব্যক্তিগত কষ্ট—সবকিছু যেন চাপা পড়ে যায় দায়িত্ববোধের কাছে।

সোহরাব হোসেন বলেন, “১৪ বছর ধরে চাকরি করছি, কিন্তু এখনো স্থায়ী হইনি। যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই এই চায়ের দোকান করেছি। সারাদিন অফিস করে আবার রাতে দোকান চালাতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে এই পরিশ্রম করতেই হয়।”

তার কথায় ফুটে ওঠে না কোনো অভিযোগ; বরং আছে বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা। দিনের শেষে তার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় ব্যাংককর্মী বা চা বিক্রেতা নয়—তিনি একজন দায়িত্বশীল পরিবারের মানুষ, যিনি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রামে নামেন।

সোহরাব হোসেনের নিয়মিত ক্রেতা মার্কেটিং বিভাগের ২০২২- ২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো তৌহিদুর রহমান সাকিব বলেন, “ভাই সারাদিন ব্যাংকে চাকরি করে সন্ধাবেলা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই দোকানটা চালান। রাতের বেলা আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা, এসাইনমেন্ট এবং পরীক্ষার প্রেসার রিলিজ করার জন্য সবাই যখন রাতের বেলা বের হয় তখন অনেকেই ভাইয়ের দোকানে আসেন এক কাপ চা খাওয়ার জন্য বা কিছু নাস্তা করার জন্য। এই যে ভাই আমাদের জন্য সাকাল থেকে ব্যাংকে কাজ করেন এবং চা বিক্রির মাধ্যমে রাতেরবেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য সুযুগ করে দেন সেজন্য ভাইকে সাধুবাদ জানাই। “

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দিনে ব্যাংকের কর্মী, রাতে চায়ের দোকান—ক্লান্তিকে হার মানিয়ে এগিয়ে চলা এক মানুষের গল্প

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কেতলিতে ফুটতে থাকা চায়ের টগবগ শব্দ আর ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের সুবাসে সন্ধ্যা নামতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় সোহরাবের ছোট্ট দোকান। একে একে ভিড় জমান শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কারও হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা, কারও মুখে দিনের গল্প, আবার কেউ ব্যস্ত রাজনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আলোচনা নিয়ে। ছোট্ট এই দোকানটি যেন সন্ধ্যার পরিণত হয় এক টুকরো আড্ডাঘরে, যেখানে চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে ভাগাভাগি হয় হাসি, অভিমান আর জীবনের নানা গল্প। আর সেই গল্পগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকেন সোহরাব

কিন্তু এই ব্যস্ত দোকানের পেছনের গল্পটা ঠিক ততটাই উষ্ণ, যতটা কেতলিতে ফুটতে থাকা চা। আড্ডায় মুখর মানুষগুলোর জন্য একের পর এক চায়ের কাপ তৈরি করতে থাকলেও, নিজের জীবনের গল্প নিয়ে খুব একটা কথা বলেন না সোহরাব। হাসিমুখে সবার চা এগিয়ে দেন, খোঁজখবর নেন, অথচ তার নিজের দিনটা কেটেছে টানা কর্মব্যস্ততায়।

সকালে শুরু হয় তার প্রথম কর্মদিবস। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জনতা ব্যাংকে মাস্টাররোল কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও আজও মেলেনি স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা। সীমিত বেতনে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় একটি পেশা।

অফিস শেষে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। সন্ধ্যা নামতেই চলে আসেন  নিজের ছোট্ট চায়ের দোকানে। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন ক্রেতাদের চা পরিবেশনে। সারাদিনের ক্লান্তি, শারীরিক অবসাদ কিংবা ব্যক্তিগত কষ্ট—সবকিছু যেন চাপা পড়ে যায় দায়িত্ববোধের কাছে।

সোহরাব হোসেন বলেন, “১৪ বছর ধরে চাকরি করছি, কিন্তু এখনো স্থায়ী হইনি। যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই এই চায়ের দোকান করেছি। সারাদিন অফিস করে আবার রাতে দোকান চালাতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে এই পরিশ্রম করতেই হয়।”

তার কথায় ফুটে ওঠে না কোনো অভিযোগ; বরং আছে বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা। দিনের শেষে তার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় ব্যাংককর্মী বা চা বিক্রেতা নয়—তিনি একজন দায়িত্বশীল পরিবারের মানুষ, যিনি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রামে নামেন।

সোহরাব হোসেনের নিয়মিত ক্রেতা মার্কেটিং বিভাগের ২০২২- ২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো তৌহিদুর রহমান সাকিব বলেন, “ভাই সারাদিন ব্যাংকে চাকরি করে সন্ধাবেলা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই দোকানটা চালান। রাতের বেলা আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা, এসাইনমেন্ট এবং পরীক্ষার প্রেসার রিলিজ করার জন্য সবাই যখন রাতের বেলা বের হয় তখন অনেকেই ভাইয়ের দোকানে আসেন এক কাপ চা খাওয়ার জন্য বা কিছু নাস্তা করার জন্য। এই যে ভাই আমাদের জন্য সাকাল থেকে ব্যাংকে কাজ করেন এবং চা বিক্রির মাধ্যমে রাতেরবেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য সুযুগ করে দেন সেজন্য ভাইকে সাধুবাদ জানাই। “