ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আজ থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় এ-চালান বাধ্যতামূলক দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের কুবি বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ নেই; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ক্ষোভ টেকনাফে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশংসায় ভাসছেন এসিল্যান্ড রূপায়ন দেব হাইওয়ে পুলিশের এত সতর্কতার মধ্যেও সড়ক দুর্ঘটনা : ঝরছে তাজা প্রাণ ব্রিটিশ থেকে বাংলাদেশ: তিন আমলে কক্সবাজারের তিন মন্ত্রী কুবিতে ‘ডেভলপিং একাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইবি ক্যাম্পাসের হোটেল গুলোতে খাবারের মূল্য তালিকা নির্ধারণ শিক্ষক সংকটে চকরিয়া-মাতামুহুরীর প্রাথমিক শিক্ষা

আজ থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় এ-চালান বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি রাজস্বসহ সব ধরনের প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে আজ ১ জুলাই থেকে এ-চালান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সনাতনী চালানব্যবস্থা বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল ৩০শে জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সনাতনী চালানব্যবস্থা বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে কার্যকর করছে, যখন এ-চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, লেনদেন ও আদায়ের পরিমাণে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

অর্থবছরভিত্তিক এ-চালান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে এ-চালান ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সাত অর্থবছরে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে।

অতীতে সরকারি ফি বা রাজস্ব জমার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যেতে হতো। এতে সেবাগ্রহীতাদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব, হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা এবং ভুয়া চালান তৈরির ঝুঁকিও ছিল। এ-চালান ব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেছে বলে দাবি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আজ থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় এ-চালান বাধ্যতামূলক

আপডেট সময় : ১২:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সরকারি রাজস্বসহ সব ধরনের প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে আজ ১ জুলাই থেকে এ-চালান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সনাতনী চালানব্যবস্থা বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল ৩০শে জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সনাতনী চালানব্যবস্থা বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে কার্যকর করছে, যখন এ-চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, লেনদেন ও আদায়ের পরিমাণে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

অর্থবছরভিত্তিক এ-চালান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে এ-চালান ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সাত অর্থবছরে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে।

অতীতে সরকারি ফি বা রাজস্ব জমার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যেতে হতো। এতে সেবাগ্রহীতাদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব, হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা এবং ভুয়া চালান তৈরির ঝুঁকিও ছিল। এ-চালান ব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেছে বলে দাবি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।