“জাবিতে ‘Decoding Time’ শিক্ষার্থীদের চোখ দিয়ে অতীত অনুসন্ধানের অনন্য প্রদর্শনী”
- আপডেট সময় : ০৮:১১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
প্রত্নতত্ত্ব আমাদের টেনে নিয়ে যায় শেকড়ের কাছাকাছি বই কিংবা লিখিত দলিলের নাগালের বাইরে থাকা হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে চেনায়। সেই হারিয়ে যাওয়া দিনলিপি এবং হাজার বছর আগের জীবনযাপনকে পর্দার সামনে তুলে ধরতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শুরু হয়েছে “প্রত্নতাত্ত্বিক কাল নির্ধারণ” বিষয়ক বিশেষ প্রদর্শনী ‘Decoding Time’।
‘Ordering the past, measuring time’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা এই ভিন্নধর্মী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন কলা ভবনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীটি আজ ২৬ জুলাই (রবিবার), ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যক্রমের ১০৯ নম্বর কোর্স *”প্রত্নতত্ত্ব পরিচিতি”* এর অংশ হিসেবে এটি আয়োজন করে।
প্রদর্শনীতে অতীতের মানুষের ব্যবহার্য জিনিসপত্র (প্রত্নবস্তু) এবং পরিবেশগত উপাদান (বাস্তুবস্তু)-এর মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় এক অতীত সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মোট সাতটি দলে বিভক্ত হয়ে দেয়ালিকা, চিত্র ও তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন ত্রিমাত্রিক (3D) মডেলের মাধ্যমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিষয় উপস্থাপন করছে। প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয় স্তরায়ন,সিরিয়েশন,ফ্লোরিন-ইউরেনিয়াম-নাইট্রোজেন (ফান) ডেটিং,কার্বন ডেটিং,ডেনড্রোক্রোনোলজি,থার্মোলুমিনেসেন্স,পটাশিয়াম-আর্গন ডেটিং।
আজ আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এমরান জাহান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করেন।
এই আয়োজনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবিকুন নাহার। অনুপ্রেরণা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আয়োজক শিক্ষার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষণীয় আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
আয়োজনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবিকুন নাহার বলেন,
শিক্ষার্থীদের এই ধরনের আয়োজন শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; এটি তাদের সৃজনশীলতা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তাভাবনা, দলগত কাজ এবং বৈজ্ঞানিক ধারণাকে কার্যকরভাবে উপস্থাপনের এক অনন্য প্রকাশ। বর্তমান উচ্চশিক্ষায় Experiential Learning বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এই প্রদর্শনী সেই দর্শনেরই একটি সফল প্রয়োগ। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের তত্ত্ব বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ পেয়ে নতুন অর্থ তৈরি করেছে।




















