ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইবিতে জিপিএসভিত্তিক জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানালেন এরদোয়ান সংসদ অভিমুখে তেলাপোকা জনতা পার্টি ; পুলিশের সাথে সংঘর্ষ জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি : প্রতিমন্ত্রী নুর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খাঁন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু মারা গেছেন নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবির পৃথক অভিযানে ৬ বার্মিজ গরু ও ৭৫০ কেজি ইউরিয়া সার জব্দ শহীদ শিল্পী আব্দুল্লাহ আল তাহির দুর্যোগে থেমে থাকেননি, বন্যার্ত মানুষের পাশে মানবিক শওকত হোসেন ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস নিয়ে কুবি কুইজ সোসাইটির কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কুবিতে সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের স্মরণে সেমিনার 

কুবি প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে  সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দিনব্যাপী সেমিনারের দ্বিতীয় দিনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানির সঞ্চালনায় কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাক ড. এ এস এম আবু দায়েন ও বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা লুৎফুর রহমানের চিন্তভাবনা, সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা মনে করেন,
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি গড়ে তুলতে এই সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী।
তিনি ‘মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের প্রবন্ধ: পরিপ্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ রেজাউল ইসলাম রেজা ‘মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের প্রবন্ধ: পরিশীলিত জীবনবোধের স্বরূপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “মোহাম্মদ লুৎফর রহমান তাঁর সাহিত্যকর্মে মানুষের নর্মেটিভ বা আদর্শগত দিককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও গুণাবলি; যেগুলোর ভিত্তিতে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং কাজ পরিচালনা করে- সেগুলোই তাঁর লেখার মূল উপজীব্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের এই গুণগত ও নৈতিক দিকগুলো যত উন্নত হবে, তার প্রতিটি কাজ- তা সাহিত্যচর্চা হোক কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন- ততই সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী হবে।”

সেমিনারের আলোচক বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “লুৎফর রহমান বিশ্বাস করতেন জাতিকে শক্তিশালী, শ্রেষ্ঠ, সম্পদশালী, উন্নত ও সুখী করতে শিক্ষা ও জ্ঞান বর্ষার বারিধারার মত সর্বসাধারণের মধ্যে বিদ্যমান করতে হবে। উগ্রতা ও দাম্ভিকতা নয়, বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমেই সকলের মন জয় করা যায়।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও জাগতিকজ্ঞান চর্চার সাথে একীভূত হতে পারলে বাংলা একাডেমি প্রস্তাবিত জ্ঞান উৎপাদনের লক্ষ্য ভালোভাবে পূরণ হবে বলে আশা করি।”

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারের আলোচক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন বলেন, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি আমাদের যে রাস্তা দেখিয়ে গিয়েছেন তা হলো নৈতিকতা চর্চার মধ্য দিয়ে আদর্শ জীবন গঠন। এছাড়াও তিনি উপযোগবাদ ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, “বাংলা একাডেমি আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় আমি বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুবিতে সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের স্মরণে সেমিনার 

আপডেট সময় : ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে  সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দিনব্যাপী সেমিনারের দ্বিতীয় দিনে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানির সঞ্চালনায় কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরবর্তীতে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাক ড. এ এস এম আবু দায়েন ও বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা লুৎফুর রহমানের চিন্তভাবনা, সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা মনে করেন,
মোহাম্মদ লুৎফর রহমান সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি গড়ে তুলতে এই সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী।
তিনি ‘মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের প্রবন্ধ: পরিপ্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ রেজাউল ইসলাম রেজা ‘মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের প্রবন্ধ: পরিশীলিত জীবনবোধের স্বরূপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “মোহাম্মদ লুৎফর রহমান তাঁর সাহিত্যকর্মে মানুষের নর্মেটিভ বা আদর্শগত দিককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও গুণাবলি; যেগুলোর ভিত্তিতে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং কাজ পরিচালনা করে- সেগুলোই তাঁর লেখার মূল উপজীব্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের এই গুণগত ও নৈতিক দিকগুলো যত উন্নত হবে, তার প্রতিটি কাজ- তা সাহিত্যচর্চা হোক কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন- ততই সুষ্ঠু, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী হবে।”

সেমিনারের আলোচক বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “লুৎফর রহমান বিশ্বাস করতেন জাতিকে শক্তিশালী, শ্রেষ্ঠ, সম্পদশালী, উন্নত ও সুখী করতে শিক্ষা ও জ্ঞান বর্ষার বারিধারার মত সর্বসাধারণের মধ্যে বিদ্যমান করতে হবে। উগ্রতা ও দাম্ভিকতা নয়, বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমেই সকলের মন জয় করা যায়।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও জাগতিকজ্ঞান চর্চার সাথে একীভূত হতে পারলে বাংলা একাডেমি প্রস্তাবিত জ্ঞান উৎপাদনের লক্ষ্য ভালোভাবে পূরণ হবে বলে আশা করি।”

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারের আলোচক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন বলেন, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি আমাদের যে রাস্তা দেখিয়ে গিয়েছেন তা হলো নৈতিকতা চর্চার মধ্য দিয়ে আদর্শ জীবন গঠন। এছাড়াও তিনি উপযোগবাদ ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, “বাংলা একাডেমি আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় আমি বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুই দিনব্যাপী এ সেমিনারে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হবে।”