ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চকরিয়া পৌরসভার তরছঘাট সড়কের বেহাল দশা! এক সপ্তাহেই শেষ আট মাসের পরিশ্রম, বন্যায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিতে কৃষক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত সমিতিপাড়ায় কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ভিক্ষুকদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগ চট্টগ্রাম জব ফেয়ার ২০২৬-এ ‘বেস্ট ক্লাব পার্টনার অ্যাওয়ার্ড’ পেল ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার চট্টগ্রাম ইবিতে জিপিএসভিত্তিক জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানালেন এরদোয়ান সংসদ অভিমুখে তেলাপোকা জনতা পার্টি ; পুলিশের সাথে সংঘর্ষ জামায়াতের উত্থান দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি : প্রতিমন্ত্রী নুর

এক সপ্তাহেই শেষ আট মাসের পরিশ্রম, বন্যায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিতে কৃষক

নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ গাছ মারা গেছে। এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, আট মাস আগে দুই কানি জমিতে ১ হাজার ৩০০টি পেঁপের চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলেছিলেন নুরুল আবছার বাদশা। বাগানের অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছিল এবং এক মাসের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুরো বাগান তলিয়ে যায়। এতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁপে গাছ মারা যায়।
এছাড়া তিনি দুই কানি জমিতে বেগুন, দুই কানি জমিতে শসা, আড়াই কানি জমিতে তিত করলা এবং দেড় কানি জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে এসব ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশা বলেন, “সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বাগান করেছি। বিক্রির সময় এসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকারের প্রণোদনা ও সহযোগিতা চাই।”
চকরিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল বশর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগান ও অন্যান্য ফসলের তথ্য সরকারি জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চকরিয়ার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানান, বন্যায় উপজেলার ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁপে, তিত করলা, বেগুন ও শসাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক এ কে এম বেলাল বলেন, “চকরিয়ার সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পেঁপে, শাকসবজি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে তারা আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।”
নিউজ ভিশনের মফস্বল সম্পাদক সাঈদি আকবর ফয়সাল বলেন, “চকরিয়ার এই পেঁপে বাগানের ক্ষতি শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত লোকসান নয়, এটি পুরো কৃষি খাতের দুর্বল অবস্থার একটি প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয় মুহূর্তেই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক সপ্তাহেই শেষ আট মাসের পরিশ্রম, বন্যায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিতে কৃষক

আপডেট সময় : ১০:১১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ গাছ মারা গেছে। এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, আট মাস আগে দুই কানি জমিতে ১ হাজার ৩০০টি পেঁপের চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলেছিলেন নুরুল আবছার বাদশা। বাগানের অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছিল এবং এক মাসের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুরো বাগান তলিয়ে যায়। এতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁপে গাছ মারা যায়।
এছাড়া তিনি দুই কানি জমিতে বেগুন, দুই কানি জমিতে শসা, আড়াই কানি জমিতে তিত করলা এবং দেড় কানি জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে এসব ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশা বলেন, “সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বাগান করেছি। বিক্রির সময় এসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকারের প্রণোদনা ও সহযোগিতা চাই।”
চকরিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল বশর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগান ও অন্যান্য ফসলের তথ্য সরকারি জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চকরিয়ার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানান, বন্যায় উপজেলার ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁপে, তিত করলা, বেগুন ও শসাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিক এ কে এম বেলাল বলেন, “চকরিয়ার সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পেঁপে, শাকসবজি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে তারা আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।”
নিউজ ভিশনের মফস্বল সম্পাদক সাঈদি আকবর ফয়সাল বলেন, “চকরিয়ার এই পেঁপে বাগানের ক্ষতি শুধু একজন কৃষকের ব্যক্তিগত লোকসান নয়, এটি পুরো কৃষি খাতের দুর্বল অবস্থার একটি প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয় মুহূর্তেই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।”