ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
​ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসী রূপ:বসতভিটা ও স্কুল-মসজিদ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন ইবিতে ছেয়ে গেছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম, ক্যান্সারসহ নানা রোগের আশঙ্কা চকরিয়ায় মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি ইরানের বুশেহরে ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ৬০ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ফুটবল সম্রাট পেলের জার্সি যশোরে শার্শায় ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ ​শোভাযাত্রা ও ভজনে মুখর ইসলামপুর: শুরু হলো ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব ইবিতে সাজিদ হত্যার এক বছর: ব্যতিক্রমী আয়োজনে স্মরণ শিক্ষার্থীদের ম্যাচের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দিয়ে দিলো নরওয়ে চকরিয়ায় বিজিবির ত্রাণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

​ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসী রূপ:বসতভিটা ও স্কুল-মসজিদ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুরঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকায় রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীভাঙনের ভয়াবহতায় ইতিমধ্যেই ওই এলাকার মেইন রোড, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অসংখ্য বসতবাড়ী চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অব্যাহত এই ভাঙনে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসী ছোবলে মোহাম্মদপুর গ্রামের মাজম আলী, নালচন, সামাদ ও রুপচানসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ী ও ভিটেমাটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়েছে এই পরিবার গুলো। এদিকে মেইন রোড, স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যালয়সহ পুরো এলাকাকে ব্রহ্মপুত্রের গ্রাস থেকে রক্ষা এবং স্থায়ী ভাঙন রোধের দাবিতে “মানববন্ধন” কর্মসূচি পালন করেছে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকাবাসী।

​নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো ভুক্তভোগী তোফাজ্জল ও নুর ইসলাম ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন,চোখের পলকে আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ব্রহ্মপুত্র নদী গিলে খেলো। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, সেই পথটুকুও নেই। আমরা ত্রাণ চাই না,আমরা এই রাক্ষসী নদীর ভাঙন থেকে বাঁচতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ চাই।

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক মাধ্যমিক কর্মকর্তা ছরোয়ার আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়ার মেইন রোড আর মসজিদ-স্কুল যদি নদীগর্ভে চলে যায়, তবে আমাদের পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অতি দ্রুত যেন এখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়।

​গোয়ালেরচর ইউনিয়নে যুবদলের আহবায়ক সেলিম মাষ্টার ও ওযার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক বলেন, যদি অনতিবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ জুবায়ের বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

​ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসী রূপ:বসতভিটা ও স্কুল-মসজিদ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকায় রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীভাঙনের ভয়াবহতায় ইতিমধ্যেই ওই এলাকার মেইন রোড, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অসংখ্য বসতবাড়ী চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অব্যাহত এই ভাঙনে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের রাক্ষসী ছোবলে মোহাম্মদপুর গ্রামের মাজম আলী, নালচন, সামাদ ও রুপচানসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ী ও ভিটেমাটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়েছে এই পরিবার গুলো। এদিকে মেইন রোড, স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যালয়সহ পুরো এলাকাকে ব্রহ্মপুত্রের গ্রাস থেকে রক্ষা এবং স্থায়ী ভাঙন রোধের দাবিতে “মানববন্ধন” কর্মসূচি পালন করেছে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়া এলাকাবাসী।

​নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো ভুক্তভোগী তোফাজ্জল ও নুর ইসলাম ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন,চোখের পলকে আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ব্রহ্মপুত্র নদী গিলে খেলো। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো, সেই পথটুকুও নেই। আমরা ত্রাণ চাই না,আমরা এই রাক্ষসী নদীর ভাঙন থেকে বাঁচতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ চাই।

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক মাধ্যমিক কর্মকর্তা ছরোয়ার আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, মোহাম্মদপুর ও সভুকুড়ার মেইন রোড আর মসজিদ-স্কুল যদি নদীগর্ভে চলে যায়, তবে আমাদের পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অতি দ্রুত যেন এখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়।

​গোয়ালেরচর ইউনিয়নে যুবদলের আহবায়ক সেলিম মাষ্টার ও ওযার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক বলেন, যদি অনতিবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ জুবায়ের বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন জানান।