ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎খেয়াঘাটের মাঝি জিল্লু মিয়ার জীবন-যুদ্ধের একমাত্র হাতিয়ার বৈঠা আর ভাঙ্গা নৌকা কক্সবাজারে র‍্যাবের অভিযানে প্রাইভেটকার থেকে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার, ২ মাদক কারবারি আটক ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণের জমকালো প্রস্তুতি, থাকছেন রাষ্ট্রীয় অতিথিরা কুবির ইংরেজি বিভাগের ১৮তম উইকেন্ড প্রোগ্রামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কমিশনের পিআইসি নিবন্ধন পেল কুবি মহেশখালীতে স্বমীর হাতে স্ত্রী খুন, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ চকরিয়া হারবাংয়ে বন্যার্তদের মাঝে জামায়াত নেতা ফারুকের কাপড় বিতরণ কুবিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত রামুতে পুলিশের চেকপোস্টে ধরা পড়ল বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রধারী

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

গত পাঁচ মাস ধরে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পর এবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এই যৌথ সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গী হবে ইসরাইল।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে ৩ আগস্ট সোমবারে আর্থিক বাজার খোলার আগেই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রথম দফার হামলা শেষ করতে চায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ইসরাইলকে ইতোপূর্বে এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তেল আবিব হামলার সময়সীমা নির্ধারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করতে আগ্রহী।

তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই সামরিক হামলায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। তবে দুই দিন পর, অর্থাৎ ২ মার্চ ইসরাইল এই যুদ্ধ থেকে সাময়িকভাবে সরে গিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে।
ইরানের জ্বালানি খাতে নতুন করে যৌথ হামলার উদ্যোগ ও সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে বিস্তারিত জানতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিবিএস নিউজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যৌথ হামলা শুরুর বিষয়ে তারা এখনো কিছু জানেন না এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে প্রেসিডেন্টের সরকারি অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করব। সেই আঘাত এতটাই মারাত্মক হবে যে তারা একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বলবে—‘থামুন, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া নজরদারির আওতায় ইরান কোনো অবস্থাতেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।’

পেন্টাগন সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সম্ভাব্য এই নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রধান তেল শোধনাগারগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির রাজধানী তেহরানকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপর প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ভিন্ন তথ্য। তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকেই ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন।

তবে সূত্র উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো উল্লেখ করেছে, যদি শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য এই হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় আলোচনায় ফিরে আসতে পারেন।

মার্কিন হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের আধাসরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য ও আকস্মিক হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক ও বড় মাত্রার পাল্টা হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

গত পাঁচ মাস ধরে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পর এবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এই যৌথ সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গী হবে ইসরাইল।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে ৩ আগস্ট সোমবারে আর্থিক বাজার খোলার আগেই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রথম দফার হামলা শেষ করতে চায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ইসরাইলকে ইতোপূর্বে এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তেল আবিব হামলার সময়সীমা নির্ধারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করতে আগ্রহী।

তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই সামরিক হামলায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। তবে দুই দিন পর, অর্থাৎ ২ মার্চ ইসরাইল এই যুদ্ধ থেকে সাময়িকভাবে সরে গিয়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে।
ইরানের জ্বালানি খাতে নতুন করে যৌথ হামলার উদ্যোগ ও সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে বিস্তারিত জানতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিবিএস নিউজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যৌথ হামলা শুরুর বিষয়ে তারা এখনো কিছু জানেন না এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে প্রেসিডেন্টের সরকারি অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করব। সেই আঘাত এতটাই মারাত্মক হবে যে তারা একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বলবে—‘থামুন, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া নজরদারির আওতায় ইরান কোনো অবস্থাতেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।’

পেন্টাগন সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সম্ভাব্য এই নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রধান তেল শোধনাগারগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির রাজধানী তেহরানকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপর প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ভিন্ন তথ্য। তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকেই ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন।

তবে সূত্র উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরো উল্লেখ করেছে, যদি শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য এই হামলা স্থগিত রেখে পুনরায় আলোচনায় ফিরে আসতে পারেন।

মার্কিন হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের আধাসরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য ও আকস্মিক হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক ও বড় মাত্রার পাল্টা হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি