আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদলের কঠোর অবস্থান
- আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
গত ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক ও দেশবিরোধী গোপন অপতৎপরতা চালায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকতার কক্ষে অভিযান চালিয়েছে শাখা ছাত্রদল। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপরে দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তার এ অভিযান চালায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে থাকা বিভিন্ন মগ ও টেবিল ভাঙচুর এবং আগামী দিন থেকে ক্যাম্পাসে আসতে বারণ করে বলে জানা গেছে। পরে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে সংগঠনটি।
জানা যায়, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহম্মেদ এবং টিএসসিসির সহকারী রেজিস্টার বিপুল আহমেদের কক্ষে এ অভিযান করে ছাত্রদল।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আসাদ তৌফিক, সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ, আলীনূর রহমান কর্মী রাহি, সাবিক, নাঈম, সিজান, সাগর আলী, আতিকুর রহমানসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, ‘আমি দৈনন্দিনের মতো কাজকর্ম করতেছিলাম। সেসময় ১০-১৫ জন পোলাপান এসে শালা তুই আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট করিস বলে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ভাবে মারতে আসে আমাকে। আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করে। এসময় টেবিলে থাকা প্লেট ভাঙচুর করে।’
এ বিষয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন,’তারা আমার রুমে এসেছিলো, গায়ে হাত তোলেনি। এমনকি আমি কোনো হেনস্তারও শিকার হইনি। এটা সত্য যে তারা আমার রুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি পেয়েছে। যেহেতু প্রক্টর এই বিভাগের তাই সেই ভালো জানে।’
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে মিটিং এবং ভার্চুয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফ্যাসীবাদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদল সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। ক্যাম্পাসকে শান্ত ও পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ছাত্রদল সর্বদা প্রস্তুত।”
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, “পতিত আওয়ামীলীগের দোসররা শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা ডিসেম্বরে খুনি হাসিনাকে ফেরাতে গোপনে বিভিন্ন মিছিল মিটিং করে। ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় জারি থাকবে।”
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার পায়তারা চালাচ্ছে কতিপয় ফ্যাসিস্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা। তারা হাসিনাকে ফেরানোর জন্য অফিস বাদ দিয়ে নানা কর্মকাণ্ড করছে। তাদের এই অপকর্ম রুখে দেওয়ার জন্য ছাত্রদল সবসময় প্রস্তুত। আজ ফ্যাসিস্ট মাহবুবের কক্ষে শেখ মুজিবের ঝুলানো ছবি দেখেছি। আমাদের কিছু কর্মী গিয়ে তা নামিয়ে দিয়ে আসে। আমরা কাউকে মারধর বা কোনো ধরনের ভাংচুর করিনি। এছাড়া আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে। প্রশাসন এক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।”
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আজকে যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রক্টরিয়াল টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সেসব বিষয় সামাল দেয়ার জন্য।’

























