ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না-এটিএম আজহার চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের চেষ্টা, আটক ৬ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে পত্রিকার সম্পাদক নিপসমের নতুন পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা দুনিয়ার সফর শেষ করলেন কবি আল মুজাহিদী কক্সবাজারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার বেনাপোলে আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন ৫ শতাধিক নারী সীমান্তে ১১ বিজিবির বড় সাফল্য: জারুলিয়াছড়ি পয়েন্টে সোয়া ৩ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ রামুতে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা: সেরার মুকুট রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের

অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না-এটিএম আজহার

রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর-২(বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, এখন মন্ত্রীরাও সংসদে মিথ্যা কথা বলে। মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। আবার সেই মিথ্যার উপর অটুট থাকার জন্য নানান ধরনের যুক্তি তর্ক দাঁড় করায়। অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না।

সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আমাদেরকে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের উপকারের জন্য সত্য কথা বলতে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেখানে যদি আমরা সব জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলি মিথ্যা তথ্য ছড়াই তাহলে আগামীতে মানুষ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।এমপিদের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। তাই সকলকে মহান এই জাতীয় সংসদে এবং বাহিরে জনগণের সামনে সত্য কথা বলতে হব। সত্য ঘটনা এবং বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মত যদি জনগণকে এখন আমরা বিভ্রান্তিতে রাখি তাহলে আগামীতে কারো ফল ভালো হবে না।

শুক্রবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানি পাড়া ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামী ব্যাংকের ঘটনার সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক হচ্ছে ব্যাংকিং খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ মাইল ফলক। ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতীক। সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকের পরিচিত রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সকল ধর্মের মানুষের অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেন রয়েছে। দল মত নির্বিশেষে সবাই ব্যাংকটিতে তাদের আমানত রেখেছেন। ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ব্যাংকটি দখল করে ইসলামী ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা এস আলমসহ আওয়ামী পন্থী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করার চেষ্টা করেছিল। একই দিনে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের চাকরি দিয়ে টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে।

এটিএম আজহার বলেন, আবারো একই কায়দায় ইসলামী ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বর্তমান সরকারের একটি অংশ। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকরা কঠোর প্রতিবাদ করায় শেষ পর্যন্ত তারা সেটা করতে পারেননি। সেই ব্যাংকের ঋণ সম্পর্কে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও মিথ্যা কথা উপস্থাপন করে জনগণের মাঝে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একজন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারেন না।

জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট নেওয়ার সময় বর্তমান সরকার শেষে গিয়ে জুলাই এবং জুলাই যোদ্ধাদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেবে বলে জনগণের কাছে ওয়াদা করে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু সংসদে গিয়ে তারা এখন বেমালুম জুলাই আন্দোলন এবং শহীদ ও আহতদের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের মতো করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেছে। তারা যদি জুলাই এর শর্তগুলো দ্রুত পূরণ না করে তাহলে এর ফয়সালা রাজপথে হবে। আমরা ১১ দলীয় জোট রাজপথেই জুলাইয়ের সকল দাবি আদায় করে ছাড়বো।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। তারা কখন কোথায় যাচ্ছে।কি করছে, কার সাথে মিশছে। সে বিষয়গুলো নজর রাখলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতে ভালো হবে। আপনারা মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না-এটিএম আজহার

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর-২(বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, এখন মন্ত্রীরাও সংসদে মিথ্যা কথা বলে। মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। আবার সেই মিথ্যার উপর অটুট থাকার জন্য নানান ধরনের যুক্তি তর্ক দাঁড় করায়। অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না।

সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আমাদেরকে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের উপকারের জন্য সত্য কথা বলতে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেখানে যদি আমরা সব জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলি মিথ্যা তথ্য ছড়াই তাহলে আগামীতে মানুষ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।এমপিদের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। তাই সকলকে মহান এই জাতীয় সংসদে এবং বাহিরে জনগণের সামনে সত্য কথা বলতে হব। সত্য ঘটনা এবং বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মত যদি জনগণকে এখন আমরা বিভ্রান্তিতে রাখি তাহলে আগামীতে কারো ফল ভালো হবে না।

শুক্রবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানি পাড়া ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামী ব্যাংকের ঘটনার সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক হচ্ছে ব্যাংকিং খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ মাইল ফলক। ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতীক। সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকের পরিচিত রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সকল ধর্মের মানুষের অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেন রয়েছে। দল মত নির্বিশেষে সবাই ব্যাংকটিতে তাদের আমানত রেখেছেন। ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ব্যাংকটি দখল করে ইসলামী ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা এস আলমসহ আওয়ামী পন্থী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করার চেষ্টা করেছিল। একই দিনে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের চাকরি দিয়ে টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে।

এটিএম আজহার বলেন, আবারো একই কায়দায় ইসলামী ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বর্তমান সরকারের একটি অংশ। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকরা কঠোর প্রতিবাদ করায় শেষ পর্যন্ত তারা সেটা করতে পারেননি। সেই ব্যাংকের ঋণ সম্পর্কে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও মিথ্যা কথা উপস্থাপন করে জনগণের মাঝে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একজন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারেন না।

জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট নেওয়ার সময় বর্তমান সরকার শেষে গিয়ে জুলাই এবং জুলাই যোদ্ধাদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেবে বলে জনগণের কাছে ওয়াদা করে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু সংসদে গিয়ে তারা এখন বেমালুম জুলাই আন্দোলন এবং শহীদ ও আহতদের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের মতো করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেছে। তারা যদি জুলাই এর শর্তগুলো দ্রুত পূরণ না করে তাহলে এর ফয়সালা রাজপথে হবে। আমরা ১১ দলীয় জোট রাজপথেই জুলাইয়ের সকল দাবি আদায় করে ছাড়বো।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। তারা কখন কোথায় যাচ্ছে।কি করছে, কার সাথে মিশছে। সে বিষয়গুলো নজর রাখলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতে ভালো হবে। আপনারা মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে পারবেন।