ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রুপালি মৎস্যের স্বনির্ভর দেশ’—চকরিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়া, সেই সাহসী নেপালি যুবককে পুরস্কৃত করল সৌদি আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রদলের কঠোর অবস্থান এখানকার সরকার আমি, কোন চাঁদাবাজি আমার আসনে চলবে না-আমির হামজা এমপি ৩ শর্তে ভারত সফরে যাবেন তারেক রহমান আমরা প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি যমুনায় জাল চুরি সন্দেহে ধাওয়া পিটিয়ে ১ জনকে হত্যা আহত ২ বাংলাদেশের জেন-জি: দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক জাগরণ? প্যারিসে এফবিজেএর ‘জুলাই ডায়লগ স্মৃতি থেকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ফেনীর চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

প্রজ্ঞাপনে পদ নেই সনদে সাল পরিবর্তন:ইসলামপুর মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে তোলপাড়

​রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের ইসলামপুর গোয়ালেরচর মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হাসান (ইনডেক্স নম্বর: N56872351)।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৫ জুন ২০০৬ সালে। নিয়ম অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আইনি বৈধতা নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, ফল প্রকাশের প্রায় দেড় বছর আগেই অর্থাৎ ২০০৫ সালের শুরুতে তিনি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেন।

​আরও জানা যায়, ২০০৬ সালের পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন।

​এ অবস্থায় তিনি অবৈধভাবে চাকরি ধরে রাখতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনে ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি নথিপত্র জাল করে নিজেকে ওই বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন। পাশাপাশি ২০০৬ সালে প্রাপ্ত সনদের পাসের সাল পরিবর্তন করে ২০০৪ সাল দেখানো হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র সংগ্রহ করেন। এসব জাল নথির ভিত্তিতে তিনি ২০০৫ সাল ২২ জানুয়ারি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান দেখান।

​নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জাল সনদ, ভুয়া আদেশপত্র এবং গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের জালিয়াতি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না,বরং যোগ্য প্রার্থীদের অধিকারও হরণ করে।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হাসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেলী আক্তার জানান, তৎকালীন কমিটির সভাপতি নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁর সনদপত্র কিংবা নিয়োগ জাল কি না, সে বিষয়ে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু জানা নেই।

​অভিযোগের বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফা আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

​রোকনুজ্জামান সবুজ
জামালপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রজ্ঞাপনে পদ নেই সনদে সাল পরিবর্তন:ইসলামপুর মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৮:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের ইসলামপুর গোয়ালেরচর মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হাসান (ইনডেক্স নম্বর: N56872351)।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৫ জুন ২০০৬ সালে। নিয়ম অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের আগে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আইনি বৈধতা নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, ফল প্রকাশের প্রায় দেড় বছর আগেই অর্থাৎ ২০০৫ সালের শুরুতে তিনি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেন।

​আরও জানা যায়, ২০০৬ সালের পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন।

​এ অবস্থায় তিনি অবৈধভাবে চাকরি ধরে রাখতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনে ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি নথিপত্র জাল করে নিজেকে ওই বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন। পাশাপাশি ২০০৬ সালে প্রাপ্ত সনদের পাসের সাল পরিবর্তন করে ২০০৪ সাল দেখানো হয়।

​অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র সংগ্রহ করেন। এসব জাল নথির ভিত্তিতে তিনি ২০০৫ সাল ২২ জানুয়ারি নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে যোগদান দেখান।

​নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জাল সনদ, ভুয়া আদেশপত্র এবং গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের জালিয়াতি শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না,বরং যোগ্য প্রার্থীদের অধিকারও হরণ করে।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হাসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহলগিরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেলী আক্তার জানান, তৎকালীন কমিটির সভাপতি নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁর সনদপত্র কিংবা নিয়োগ জাল কি না, সে বিষয়ে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু জানা নেই।

​অভিযোগের বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফা আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

​রোকনুজ্জামান সবুজ
জামালপুর।