মো:জাবেদুল আনোয়ার
স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার।
দেশের সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে বাহিনীটি।
গত ২ জুন নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ঘুমধুম ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় এবং বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১৩টি পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তার আওতায় ছিল সেলাই মেশিন, আর্থিক অনুদান এবং ছাগল বিতরণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলের অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নানা ধরনের মানবিক সংকটের সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও জীবিকা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষাসামগ্রী প্রদান, অসহায় পরিবারের সহায়তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্তবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে বিজিবি।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিজিবি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত অঞ্চলে সামাজিক স্থিতিশীলতা, সম্প্রীতি এবং টেকসই উন্নয়নের পথ আরও প্রসারিত হবে।
সীমান্তের প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবতার সেবায় এগিয়ে এসে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।