ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বকশীগঞ্জে বন্য হাতির আক্রমণে একজন মৃত্যু মাদারগঞ্জে ব্র্যাকের নারী মাঠকর্মী গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও ​মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হানিফ মোল্লা ১৩ হাজার ৫০০ টাকার চাকরি, কোটি টাকার সম্পদের মালিক—চসিক গাড়ি চালক শাহিন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলামকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন ধাপে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর আবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো ভেনেজুয়েলা ইরানের প্রতিশোধ : মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতা : যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

১৩ হাজার ৫০০ টাকার চাকরি, কোটি টাকার সম্পদের মালিক—চসিক গাড়ি চালক শাহিন

নুরুল ইসলাম সুমন
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নুরুল ইসলাম সুমন, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক মো. শাহিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প বেতনের চাকরি করলেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে চসিকে ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত শাহিনের বর্তমান মাসিক বেতন প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার, প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া নগরীতে একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ শাহিনের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক ব্যক্তি।

অভিযোগ রয়েছে, চসিকের ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল নিয়মিতভাবে বিক্রি করে তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রতিদিন ময়লা পরিবহনের জন্য ৬ থেকে ১২ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ পেলেও কাজ শেষ করতে ৬ থেকে ৮ লিটারের বেশি প্রয়োজন হয় না। অবশিষ্ট জ্বালানি বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত শাহিনের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকায় কিনে থাকেন। অথচ বাজারে একই ডিজেলের মূল্য প্রায় ১১৫ টাকা। এভাবে সরকারি বরাদ্দের জ্বালানি কম দামে বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শাহিন সব সময় নিজে সরকারি গাড়ি চালান না। অনেক সময় অন্য শ্রমিককে অর্থের বিনিময়ে চালানোর দায়িত্ব দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহিন চসিকে চালক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিপুল সম্পদের মালিক হন। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চালাই। প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল আমার নিজের। চাকরির পাশাপাশি আমার নিজস্ব ব্যবসাও রয়েছে।”

তবে তার এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—স্বল্প বেতনের চাকরির পাশাপাশি পরিচালিত ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের বৈধতা, সম্পদের উৎস এবং সরকারি জ্বালানি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা কী? এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগটি লিখিত আকারে বা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ আমাদের কাছে এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৩ হাজার ৫০০ টাকার চাকরি, কোটি টাকার সম্পদের মালিক—চসিক গাড়ি চালক শাহিন

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নুরুল ইসলাম সুমন, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক মো. শাহিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প বেতনের চাকরি করলেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে চসিকে ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত শাহিনের বর্তমান মাসিক বেতন প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার, প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া নগরীতে একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি গাড়ি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ব্যবসার কাগজপত্র অন্যের নামে, তবে এর নিয়ন্ত্রণ শাহিনের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক ব্যক্তি।

অভিযোগ রয়েছে, চসিকের ময়লা পরিবহনকারী গাড়ির জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল নিয়মিতভাবে বিক্রি করে তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রতিদিন ময়লা পরিবহনের জন্য ৬ থেকে ১২ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ পেলেও কাজ শেষ করতে ৬ থেকে ৮ লিটারের বেশি প্রয়োজন হয় না। অবশিষ্ট জ্বালানি বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত শাহিনের কাছ থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ৯৫ টাকায় কিনে থাকেন। অথচ বাজারে একই ডিজেলের মূল্য প্রায় ১১৫ টাকা। এভাবে সরকারি বরাদ্দের জ্বালানি কম দামে বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শাহিন সব সময় নিজে সরকারি গাড়ি চালান না। অনেক সময় অন্য শ্রমিককে অর্থের বিনিময়ে চালানোর দায়িত্ব দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহিন চসিকে চালক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিপুল সম্পদের মালিক হন। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনও চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি চালাই। প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল আমার নিজের। চাকরির পাশাপাশি আমার নিজস্ব ব্যবসাও রয়েছে।”

তবে তার এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—স্বল্প বেতনের চাকরির পাশাপাশি পরিচালিত ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের বৈধতা, সম্পদের উৎস এবং সরকারি জ্বালানি বিক্রির অভিযোগের সত্যতা কী? এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগটি লিখিত আকারে বা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ আমাদের কাছে এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।