নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন’ নামক একটি কথিত মাল্টিপারপাস কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজারো গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতি পূরণ আদায়ের দাবিতে ৩০ মার্চ (সোমবার) দুপুরে মানববন্ধন ও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।
চকরিয়া পৌর শহরের মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে এ কর্মসূচি।
এতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন, যাদের অধিকাংশই তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে এখন দিশেহারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন নামে কথিত মাল্টিপারপাস কোম্পানির পরিচালক ও কর্মচারীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করে সম্প্রতি গা-ঢাকা দিয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিনের জমানো ডিপিএস এবং সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়।
বক্তারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন: কাকারা ইউনিয়নের প্রপার কাকারা এলাকার মরহুম আমিনুল ইসলামের পুত্র মোঃ এনামুল হক, সাকের মোহাম্মদ চর এলাকার মরহুম আবুল বরাত চৌধুরীর পুত্র মোঃ শাহজাহান ফেরদৌস, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ভরন্যারচর এলাকার মৃত নুরুল আলমের পুত্র তৌহিদুল ইসলাম, সুরাজপুর এলাকার আবদুল মতলবের পুত্র নুরুল আমিন, কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদ চর এলাকার মরহুম আবুল বরাত চৌধুরীর পুত্র সামাদুর রহমান সুমন, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকার মৃত অনুপ কান্তি চৌধুরীর পুত্র জয় প্রসাদ চৌধুরী নান্টু, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার বজল আহমদ সওদাগরের পুত্র ইকবালুর রহমান, কাকারা ইউনিয়নের মিনি বাজার এলাকার মোঃ ইব্রাহিমের পুত্র মোঃ আলমগীর, সাকের মোহাম্মদ চর এলাকার মৃত কাদের বক্সের পুত্র মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ওবাইদুল করিমের পুত্র সাহাব উদ্দিন, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার মৃত হাজী শফর আলীর পুত্র কামাল উদ্দিন, চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা এলাকার করিম মোহাম্মদ তারেক।
ভুক্তভোগীদের একজন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের সারা জীবনের সঞ্চয় নিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এখন আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি; মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান যেন, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয় এবং তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী গ্রাহক কফিল উদ্দিন, আবুল আশরাফ আশুরু, মাহবুবুল কবির কহিনুর, বশির, মোক্তার, মনোয়ার আলম, আলমগীর, মনসুর, প্রমূখ।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।