ঢাকাসোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জনতুষ্টিবাদ, দ্বান্দ্বিক প্রক্ষেপণ এবং এক্স্যাক্ট ম্যান এর প্রয়োজনীয়তা—আবু শাহেদ চৌধুরী

প্রতিবেদক
News Desk
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

Link Copied!

——

মিথস্ক্রিয়ার প্রধানত দুটো রূপ থাকে। ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়ার যে দুটো রূপ, নেতিবাচক মিথস্ক্রিয়ার রূপ সেক্ষেত্রে একধাপ পেছানো। আমরা আমাদের জীবনকে মোদ্দাকথায় সাব-জুডিশিয়াল কোর্ট বা গ্রাম আদালতে বিচারাধীন কোন মামলা হিসেবে যদি না দেখি, তবে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়ার দুটো প্রকরণের যেকোন একটিকে গ্রহণ করার ইচ্ছা আমাদের অন্তর্জগত থেকে বহির্জগতে প্রকাশের মাধ্যমে জগতে মিথস্ক্রিয়াকে নিছক প্রতিক্রিয়া হিসেবে না নেওয়ার প্রত্যয় নিঃসন্দেহে ব্যক্ত করতে চাইবে। আজকের যে সময়, সেটা নিঃসন্দেহে অন্য যেকোন ভূতপূর্বকালের চেয়ে বেশি গতিশীল। এ যুগের ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিকে আপনি না চাইলেও ব্যবহার করবেন। ইতোপূর্বের সোশ্যালে ফ্রন্টিয়ারের যোগসাজোশে বরং আরো বেশি। ব্যবহার করতে হয় বলে নয়, ব্যবহার করতে ব্যাপক আনন্দ আছে, সেটাও নয়। বরং এটা একটা নতুন বাস্তবতা, এটা না মেনে নেওয়াতেই সমস্যাগুলোকে আমরা জড়তার বাধা ঠেলে কিছু বলতে দিতে চাই না। কিন্তু এখানে একটা কিন্তু আছে। আমাদের সামনে যে নতুন বাস্তবতা, এটার সাথে আমরা অপরিচিত। অবশ্য, আগে যা হয়েছিল, এখনো তা হবে না, এই নিশ্চয়তা দিতে না পারাটা একটা ভীরুতা, আবার সেই নিশ্চয়তায় পুরোপুরি নিঃসন্দেহ থাকাটাও অদূরদর্শিতা। যেকোন মুভমেন্টেরই প্রতিক্রিয়া আছে, এমনকি নিশ্চলতাও এক প্রকার মুভমেন্ট, তাই সেটারও প্রতিক্রিয়া থাকবে, এটা অস্বাভাবিক নয়, বরং অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু চোখ বন্ধ করলে মস্তিষ্কের কাজ বন্ধ হয় না, এটা বোঝাটা তো অদরকারি কিছু না। বিগত কিছুদিন ধরেই যা প্রত্যক্ষ করছি, সেটাকে রিকারিং বলতে চাই না, কিন্তু যেটা পারপেচুয়াল, সেটার সাথে আপনার দেখা করতেই হবে। ব্যাপারটা হচ্ছে, ইতিহাসের বড় শিক্ষা যে, তা থেকে কেউ নাকি শিক্ষা নেয় না। যখন শিক্ষা শব্দটাই ব্যবহৃত, তখন আমি অশিক্ষিত বলে আরো রিলেট করতে পারি, আমরা কিছু থেকেই শিক্ষা নিই না৷ আরো স্পেসিফিকালি বলতে গেলে, কারো কাছ থেকেই না। এই কথাগুলো বলার ভিন্ন কোন কারণ নেই, বরং এটা বলাটা জরুরি যে, যদি আবহমান এস্টাবলিশমেন্টকে এস্টাবলিশড রাখাটা উদ্দেশ্য হয়, তবে সেটাকে ধরে রাখার দায়িত্ব যাদের উপর অর্পণ করার সর্বোত ইচ্ছা, তাদের দিকে আপনার এস্টাবলিশমেন্টকে তুলে ধরার বিকল্প নেই। এটার মানে এই না যে, তাদের দিকে লীন হয়ে ম্রিয়মাণ হবেন। এখানে একটা বিষয় বোঝা জরুরি, যেটা নিয়ে আমরা কেউ কেউ অতিমাত্রায় বলি, আবার সেটার হাইপারবোলিক কোলাহলে বিষয়টির গুরুত্বকে একেবারে উপড়েই ফেলি। যেখানে জানা জরুরি, সেখানে প্রদর্শনী, যেখানে প্রদর্শনী বেমানান, সেখানে আর্টিকুলেশনকে ওরাল ফিলোসফি বলে উন্মুক্ত করে তবেই ছাড়ি।

আজকাল ব্যাপারটা এরকমই। আমরা যা দেখছি, সেটা দেখেই ক্ষান্ত হচ্ছি না৷ আমরা জানি, ইতিহাস তো রিকারিং ট্রেনে ভ্রমণ করে। তবে সেই ট্রেনের দুর্ঘটনার এন্টিসিপেশনেই শুধু আমরা রিকারিং বিশেষণটির অবতারণা করি, ভুলটা এখানেই। মোটামুটি, আমূল কিছুই বদলায় নি, সেটা বদলানো তত্ত্বগতভাবেই অসম্ভব, ভাগ্য ভালো যে, প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও আমরা অন্তত সেটা এখন দেখাতে পারবো। মোদ্দাকথা, কদমবুচির রূপ হরেক, ভিন্নরূপের স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা বোঝাটা আপনার জন্য জরুরি। এখন আপনি জানেন, আপনার কালে যারা যুবক ছিল, আপনার পূর্বপুরুষের জন্য সেটার বেদনা কেমন। কিন্তু আপনি এও জানেন, আপনার তদানিন্তন বেদনা কেমন ছিল। এখন আপনার কো-অর্ডিনেট সিস্টেমটার সাম্প্রতিক প্রতিরূপ খুঁজে নিন। এরপর এককগুলোকে কনভার্ট করে নবীন কো-অর্ডিনেট সিস্টেমে নিয়ে আসুন। আপনি কী কী পেলেন, সেটার একটা প্যারালেলকেও বাদ দেওয়ার অহমিকা আপনাকে প্রচুর সমস্যায় ফেলার ফন্দি আঁটবে। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা এবং যারা ইতিহাস শেখায়, তারাও যদি ইতিহাস থেকে বের হতে না পারে, তবে সেটাও একটা শিক্ষা বটে!

কথা হচ্ছে, জনতুষ্টিবাদী তাহলে কারা? আমার দৃষ্টিতে, মানুষ মাত্রই মানুষ। হোক সে আদিম, হোক সে একবিংশ শতাব্দীর এজিআই-লাভ-লোভে মত্ত কোন মিলিয়নিয়ার বা গোষ্ঠী। সর্বসমেত, জনতুষ্টিবাদের গোড়ায় পানি সবাই-ই দিয়েছে, দেয় ও দিবে। কেননা মিথস্ক্রিয়ার পূর্বশর্ত সেটিই। কিন্তু এটা তো আপনাকে মানতেই হবে, মিথস্ক্রিয়া ধনান্তরী বা ঋনান্তরী দুইটাই হতে পারে। আপনি কোনদিকে? সেটা জানার আগে জানতে চাই, আপনার মিথস্ক্রিয়ার হাতিয়ার কী? সম্ভবত, এবং দৃশ্যত ও কার্যত নিশ্চিত যে, ওরাল ট্রাডিশন। আচ্ছা, বাইনারি তো থাকেই, নাকি? কিন্তু সেটা যদি শূণ্যকে আলিঙ্গন না করে, তবে তো মুশকিল! আচ্ছা, আপনার বাকযন্ত্রের সাথে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা হৃদপিণ্ড- কোনটার যোগাযোগ আছে কী? আপনার ডাক্তার বন্ধু বলবে, সরাসরি নাই। ও, তাহলে যেটা সরাসরি নাই, সেটাতে তো যোগাযোগে একটু বিঘ্ন ঘটবেই, নাকি? তাহলে এই বাধা দূর করতে আপনার কিসের প্রয়োজন? প্রেষণা, নাকি ইচ্ছা? যদি বাহ্যিক প্রেষণার বন্ধুটি ধনান্তরী না হয়, তবে তো নিশ্চয়ই ইচ্ছা! এখন, এই ইচ্ছাশক্তির মানুষটি আপনি, আমার সামনে দাঁড়ানো। আপনি কী আপনার ইচ্ছাশক্তির উপর ভরসা রাখেন? এলগরিদমের প্রেষণা কী আপনার ইচ্ছাশক্তিকে ছাপিয়ে যায় না? হয়তো বা যায় না, কিন্তু যদি যায়, তবে তো মস্তিষ্কের সাথে মুখের যোগাযোগের সম্ভাবনা তেমন একটা থাকবে না। সেটা তো মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ভার্চুয়ালিটি তো যাকে তাকে মাল্টিপ্লাই করতে পারে, আপনি কী তাহলে ঋণাত্মক সংখ্যাকেই বহুগুণে বৃদ্ধি করতে চাইবেন, যাতে আমরা শূণ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারি? একটা ইকুইলিব্রিয়াম তো থাকতে হবে? সেই ইকুইলিব্রিয়ামে থাকাটা কীভাবে সম্ভব, যদি দ্বান্দ্বিক প্রক্ষেপণের মাত্রাটা এতটা তীব্র হয় যে, তা ঘটনাদিগন্তের দিকেই চলে যায়!

এখন প্রশ্ন তো উঠে, ইচ্ছারা ততটা তীব্রতা নিয়ে থাকে না, আর প্রেষণারা তো এলগরিদমের কার্যকারণে নিয়ত সক্রিয়। তাহলে উপায়? উপায় খোঁজার আগে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে, দেখি। আমাদের কোরেই তো সমস্যা ছিল? সেটা আছে এখন? ভবিষ্যতেও থাকবে? নির্দ্বিধায় উত্তর হবে, ছিলো, আছে, এবং থাকবেই। মানুষকে আপনি মানুষই বলবেন, অন্য কিছু না, অন্তত এখন পর্যন্ত। কিন্তু যদি, প্রকাশের ধরণে কিছু নিয়ন্ত্রণ আনা যায়, তবে সেখানেই তো সেন্সরবোর্ডের সাফল্য, নাকি? আশর্যজনকভাবে, এটাও আমাদের প্যারালাল! ফ্রান্সিস বেকন বহু আগেই বলে গেছেন, রাইটিং মেকেথ এন এক্স্যাক্ট ম্যান। আমাদের সমস্যা হলো, আমাদের দেশে প্রচুর রেডি ম্যান! এখানে, ফুল ম্যান হওয়ার চেষ্টা কেউ করে না, আর এক্স্যাক্ট হওয়ার চেষ্টা যারা করে, তাদের নামের বিশেষণে ডি জিউর “বিদগ্ধ” লিখে ডি ফ্যাক্টো দগ্ধ করা হয়। এই যে প্রবণতা, এটা একটা আজানুলম্বিত শিরদাঁড়ার মতো, যার মাত্রাতিরিক্ততা জনতুষ্টি জোগাতে পারে, কিন্তু বাস্তবিক বোধকে তুষ্ট করতে পারে না। আমাদের দ্বান্দ্বিক প্রক্ষেপণকে আমরা বহু অভিধায় বৈধতা দিতে পারি, কিন্তু নবীন আন্দোলনে দিশেহারা হওয়ার একটা যে অনাবাদী বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেল, সেটার সমাধান হওয়াটা মানবজাতির জন্য জরুরি। কেননা, মানুষ আর যাই হোক, এখনই ইন্টার-প্ল্যানেটারি হ্যাবিটেশনেও যাচ্ছে না, না সে বিবর্তনবাদকে নিশ্চিত চক্ষুষ্মান স্পর্শযোগ্য সত্য বলে প্রমাণ করতে যাচ্ছে, আর নাতো এজিআই এর দাস হতে। বেকনকে আমরা আরো স্মরণ করতে চাই, তবে আপাতত এক্স্যাক্ট ম্যান হওয়ার শিরোনাম দিয়েই লেখা শেষ করতে চাই, এক্স্যাক্ট ম্যান হওয়ার পদ্ধতি বলে আপনাদের কষ্ট আর বৃদ্ধি করতে চাই না। সেটা আরেকদিনের জন্য শিকেয় তুলে রাখলাম।

আরও পড়ুন

মধ্যরাতে হঠাৎ জামায়াত আমীরের পোস্ট

নির্বাচন-পরবর্তী ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাউজান-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর জয়, পুত্র সামিরের হাতে রেজাল্ট শিট হস্তান্তর

রাউজানের নবনির্বাচিত সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ে রাউজান প্রেস ক্লাব

কক্সবাজার-৪ আসনের ফল পুনঃগণনার দাবি জামায়াত প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর

এ যেন ভোট নয় ঈদের আনন্দঘন মূহুর্ত

জামায়াতে ব্যাংক লুটেরা ও চাঁদাবাজ নেই

শরণখোলায় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“অ্যাডভেঞ্চার মনপুরা” অনুষ্ঠান আয়োজন করছে ঢাকা কলেজ প্রাক্তন রোভার স্কাউট ফোরাম”

তারুণ্যের ভাবনা মিট উইথ মজনু” কর্মশালার আয়োজন করেন মুন্সি রফিকুল আলম মজনু

শান্তিগঞ্জে বাপ-পুত্রের পিআইসি, কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি ‎

আওয়ামী লীগপন্থী আমলাদের হাতে নির্বাচনের চাবি!