মোঃ আবু সঈদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামত ও সংস্কার স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসি গঠন করা হয়। হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন কালে এ ব্যাপক অনিয়ম,দূর্নীতি ও পিআইসি গঠনে রদবদলের চিত্রটি চোখে পড়ে। সরকার হাওর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১২ কোটি টাকা সমমান অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে। উক্ত বরাদ্দকৃত টাকা উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্তৃক হাওর কেন্দ্রিক কৃষক প্রতিনিধির সমন্বয়ে মনোনীত লোক দ্বারা পিআইসি কমিটি গঠন করে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করে কিন্তু দুঃখের বিষয় উক্ত পিআইসি কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি পরিলক্ষিত হয়।
জেলা কর্তৃক অনুমোদিত ৬৭টি পিআইসির মধ্যে ২৪ টিতে অনিয়ম পাওয়া যায়।তা হলো পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৫৮ নং পিআইসিতে দেখা যায় বাপ-ছেলে একই কমিটিতে। কমিটির সভাপতি নাহিদ হাসান,সাং-বীরগাঁও। তাহার পিতা-মোঃ সাইফুর রহমান এবং আপন চাচা আলাউর রহমানসহ একই পরিবারের তিন জন সদস্য সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। সভাপতি নাহিদ হাসান এর মোবাইল নম্বর ভুল উপস্থাপন এবং পিতা সাইফুর রহমান ৬২ নং পিআইসির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেন। যার ৭১৫ মিটার কাজে ২৮.৩৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
৫৫ নং পিআইসির সেক্রেটারী আফজল হোসাইন,সাং-শ্যামনগর। ৫২০ মিটারে বরাদ্দ ২২.৩৩ লক্ষ টাকা। সেক্রেটারী মোঃ আফজল হোসাইন এর পিতা মোঃ শফিক মিয়া এ হাওরের ৫৩, ৫৪ ও ছাইল্লানি হাওরের ৬৬ নং পিআইসির সদস্য।
আফজল হোসাইন এর চাচা মোঃ ডালিম মিয়া ৫৪ নং পিআইসির সেক্রেটারি এবং পিতা মোঃ শফিক মিয়াও ঐ কমিটির সদস্য। জানা যায় ৫৫ নং পিআইসির তালিকা রদবদল করে সেক্রেটারী মুহিবুর রহমানকে পরিবর্তন করে সেক্রেটারী আফজল হোসাইনকে অন্তর্ভুক্ত করে তাহার পিতা শফিক মিয়াকে ঐ কমিটি হতে পরিবর্তন করা হয়।
খাই হাওরের পিআইসি নং ২৪ এর সভাপতি আকলুয়াছ মিয়াকে সেক্রেটারি করে সাবেক সেক্রেটারী জুনেদকে বাদ দেওয়া হয়।
কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৬২ এর সেক্রেটারি মোঃ আনিছ আলী ও ভাই মাহমুদ আলী একই কমিটির সদস্য। তিনি সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অন্য একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। সভাপতি আনোয়ার হোসেন ঐ হাওরের ৬১,খাই হাওরের ৫৭ ও ৫৮ এর চুক্তি মোতাবেক মালিক বলে জানা যায়।
কাউয়াজুরী হাওরের ৪০ নং ও ডেকার হাওরের ৩৪ নং পিআইসির পুরো কমিটি পরিবর্তন করে সদস্যদের রদবদল করে নিজেদের চুক্তিবদ্ধ লোককে মনোনীত করা হয়। কমিটির ইউপি প্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তি আপন ভ্রাতা এবং ৪০ নং সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন, জিতু খান, কামরুল ইসলাম ও মকবুল খানকে নিয়ে ঐ হাওরের ৪৩ নং পিআইসি গঠন করা হয়। ৪২ নং পিআইসির সভাপতি ও ইউপি প্রতিনিধি আপন ভ্রাতা।
তাছাড়া সাংহাই হাওরের ১নং পিআইসির সেক্রেটারী শব্দনুরকে পরিবর্তন করে হোসাইন আহমদকে সেক্রেটারি ও পুরাতন সদস্যদের পরিবর্তন করা হয়। ২ নং পিআইসির সেক্রেটারি ইউছুব আলীকে পরিবর্তন করে মুহিবুর রহমান সেক্রেটারী ও সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে বাদ দেওয়া হয়।
কাঁচিভাঙ্গা হাওরের পিআইসি নং ৪৫ এর সেক্রেটারি আব্দুল খালেছ তালুকদারকে পরিবর্তন করে সেলিম আহমদ সেক্রেটারী এবং জামখলা হাওরের ৫০ নং পিআইসির সেক্রেটারি মুকিত হোসেনকে পরিবর্তন করে এনায়েত হোসেনকে সেক্রেটারী করা হয়।
কাউয়াজুরী হাওরের ৬১ নং পিআইসির সেক্রেটারি প্রেমানন্দ দেবনাথকে পরিবর্তন করে আব্দুল হেলিম সেক্রেটারী এবং মকুল দাস ও অরুন দেবনাথকে বাদ দিয়ে মাহাজ আহমদ সোহান এবং পিআইসি নং ১৪ এর সভাপতি মহব্বত আলীকে বাদ দিয়ে সেক্রেটারি আকিবুল মিয়াকে সভাপতি এবং আমিরুল হককে সেক্রেটারি করা হয়। পিআইসি নং ১৩ এর সেক্রেটারি মোঃ মহসিনকে বাদ দিয়ে অরবিন্দু দাসকে সেক্রেটারী। ৬ ও ১০ এর গন্যমান্য সদস্য সেলন মিয়া একই ব্যক্তি।
ছাইল্লানি হাওরের ৬৪ নং পিআইসির সভাপতি মোঃ সফিকুল ইসলাম খাই হাওরের পিআইসি নং-২৯ এর সেক্রেটারী রফিকুল ইসলামের আপন ভ্রাতা।
ডেকার হাওরের ৩৬ নং পিআইসির সভাপতি মনিরুল ইসলামকে পরিবর্তন করে সিজিল মিয়াকে সভাপতি ও ৩১ নং পিআইসির সেক্রেটারি ফজলুল করিমের ভ্রাতা এনামুল করিম একই কমিটির সদস্য।
জানা যায়,উক্ত কমিটিগুলো রদবদলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমন্বয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন ও অফিস সহকারী পার্থ রায় এর নাম সম্পৃক্ত পাওয়া যায়।
তাছাড়া পিআইসি নং-১, ৩, ৩৯,৪০,৪৫,৬৪, ৬৫ ও ৬৬ অপ্রয়োজনীয় এবং ২, ৯,১৭, ৪৮ ও ৫০ নং অনেক পিআইসিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ বলে পরিলক্ষিত হয়।
বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়,উক্ত কমিটিগুলো রদবদলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমন্বয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন ও অফিস সহকারী পার্থ রায় এর নাম সম্পৃক্ত পাওয়া যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস ও) মোঃ মনিরুজ্জামান মোহন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, যা কিছু করা হয়েছে সবকিছু নীতিমালা মেনেই করা হয়েছে।