চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে একটি অসহায় পরিবারের ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি জোরপূর্বক দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণকালে বাধা দিতে গেলে এক নারীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী রওশন আক্তার (৫৮) অভিযোগে জানান, চকরিয়া থানাধীন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মন্ডল পাড়া এলাকায় অবস্থিত বি.এস খতিয়ান নং-৬৪৪, বি.এস দাগ নং- ৪০৭,৪০৮ জমির পরিমাণ ৪১ শতক জমি তার ও তাহার স্বামী নুরুল আবছারের নামে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ক্রয়কৃত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শাহ আলম মেস্ত্রী, নুরুল কবির, মো. জাহেদ, মো. সাজিদ ও শফি আলমসহ কয়েকজন ব্যক্তি ইট, বালি, সিমেন্ট ও ইটের খোয়া এনে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে রওশন আক্তার কক্সবাজার শহর থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা জমি দখল করবেই বলে হুমকি দেয় এবং বাধা দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, জখম ও প্রাণনাশ করা হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বর্তমানে অভিযুক্তরা জবরদখলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার তাদের জান-মাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে রওশন আক্তার চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ এবং পরবর্তী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) আদালতে এম.আর মামলা নং- ২০৯/২৫ দায়ের করেছেন। এর প্রেক্ষিতে ফৌ:কা: বি: ১৪৪ ধারা জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে সন্ত্রাসী কায়দায় শাহা আলম মেস্ত্রী গং জোরপূর্বক রাতের আঁধারে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, রওশন আক্তার খরিদা ও পৈত্রিক সূত্রে ৪১ শতক জায়গার মালিক।তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর ভোগ দখলে আছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে তার বর্গাচাষীদের গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি থেকে তুলে দিয়ে রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালায় শাহ আলম গং।এরপর জমির মালিক রওশন আক্তার বাঁধা প্রদান করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পর তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।