ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  1. সর্বশেষ

শহরের পরিছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবায় সুদৃষ্টি প্রয়োজন – বিশ্ব সরকার

প্রতিবেদক
জুবায়েদ মোস্তফা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ

Link Copied!

পাখিদের মতো ভোরে জেগে ওঠা মানুষদের,যারা শহর কে,আমাদের আশপাশ, আঙিনাকে পরিষ্কার রাখে, নানান স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে তারা কতটুকু স্বাস্থ্যগত ভাবে সচেতন এবং তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে কতটুকু জ্ঞান রয়েছে, আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি??
সেই ভোরে শুরু হওয়া কর্মযজ্ঞ,শেষ হয় রাতে, কখনও গভীর রাতে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য, কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা কখনও শহরের কল্যাণের বিপরীতে হাঁটে নি। যদিও সিটিকর্পোরেশন বা সেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্তৃক এবং কিছু ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি,সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়,তবুও তাদের জীবনে জমে আছে অস্বাস্থ্য, অবহেলা আর অনিরাপত্তায়।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজ তুলনামূলক ভাবে কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণও। বাসাবাড়ি,হাসপাতাল,শপিংমল,মার্কেট ইত্যাদি জায়গার বর্জ্য সংগ্রহ, ড্রেন পরিষ্কার বা ম্যানহোলের ভেতর কাজ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের জীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ ও দুর্গন্ধের সরাসরি সংস্পর্শে আসেন। অনেক সময় দেখা যায় গ্লাভস, মাস্ক, বুট—এসব প্রাথমিক সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই অবাদে কাজ করছেন। সাধারণত দেখা যায় যে,শুধু সাধারণ ময়লাযুক্ত পোশাক, খালি পা বা কখনও স্যান্ডেল পায়ে এবং খালি হাতে কাজ করছেন। ফলস্বরুপ, ত্বকের রোগ, শ্বাসকষ্ট, হেপাটাইটিস, সংক্রমণসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থেকেই যান। এ সম্পর্কে ওনাদের সচেতনতার অভাব তো রয়েছেই সাথে উদাসীনতা। স্বাস্থ্য বিষয়ে ওনারা যথেষ্ট সচেতন নন। তাদের মধ্যে অনেকে জানেনই না কিভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বহাল রাখতে হয়। কাজে যুক্ত হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্রাথমিক সরঞ্জাম পরিধান, কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক পরিধান করা ইত্যাদি বিষয়াদিতে ওনাদের অবহেলার ছাপ ব্যাপক পরিলক্ষিত ।
শহর পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের প্রতি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্যোগ খুবই সীমিত নজরে নিয়ে আসেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসা সুবিধা তারা পান না। সরকারি পর্যায়ে কিছু টিকা বা স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন হলেও তা যথেষ্ট নয়। সামাজিকভাবেও এই শ্রেণির মানুষগুলো অবহেলিত।
এখন সময় এসেছে এদের কথা ভাবার। দেশে নানান সংস্কারের মধ্যে শহরের পরিছন্নতা কর্মীদের পেশায় সঠিক মূল্যায়ন ও সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী (গ্লাভস, মাস্ক, বুট, ইউনিফর্ম) নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার বা সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অন্তর্ভুক্তিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন করা যেতে পারে। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সচেতনতা টিম গঠন করা হলে কর্মীদের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
তাছাড়া, স্বাস্থ্যবীমা ও ঝুঁকি ভাতা চালু করা যেতে পারে —যাতে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার সময় তারা নিরাপত্তা পান। জনসচেতনতা তৈরিতে মিডিয়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসতে পারে —যাতে সমাজের মানুষ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সম্মান ও সহযোগিতা করে।
শহরের সৌন্দর্য যাদের হাতে গড়ে ওঠে, তাদের জীবন যদি অন্ধকারে থাকে, তাহলে শহরও কখনো সত্যিকার অর্থে আলোকিত তথা পরিচ্ছন্ন হতে পারে না। তাই তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা শুধু তাদের নিজের জন্য নয়, পুরো শহরের নিরাপত্তা ও মানবতার জন্য অপরিহার্য।

বিশ্ব সরকার
শিক্ষার্থী,নৃবিজ্ঞান বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেট।

আরও পড়ুন

চকরিয়ায় কৃষিজমির টপ সয়েল কাটায় মোবাইল কোর্ট, ২ লাখ টাকা জরিমানা

সীমান্তে আরকান আর্মির হামলার প্রতিবাদে টেকনাফ বিএনপি’র বিক্ষোভ

স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতা কোথায়

আনোয়ারায় চাঁদাবাজি ও হামলার মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

শফিকুল ইসলাম মাসুদকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করল দল

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জায়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদের নিন্দা

এবার তিন স্পটে অবরোধ কর্মসূচি দিলেন প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা

হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় ক্যারাভ্যান নামাচ্ছে এনসিপি

জগন্নাথপুরে হাওর বাঁচাও আন্দোলন নেতৃবৃন্দের বাঁধ পরিদর্শন ‎

‎ছাতকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ‎

চকরিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

সুমন দাসের কবিতাগুচ্ছ