চবি প্রতিবেদক:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তার প্রক্রিয়া, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় ও যোগ্যতা চবি শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। আজ (১১ জানুয়ারি) রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে এ নিয়ে আন্দোলন করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামি ছাত্র মজলিশের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী, ভয়েস অব স্টুডেন্টস নামক সেবা সংগঠনের আশিকুর রহমান, শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ও শাহজালাল হলের এজিএস ইমতিয়াজ জাবেদসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মী, ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা—‘নিয়োগ যদি স্বচ্ছ হয়, প্রকাশ করতে কীসের ভয়’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিয়োগের ঠিকাদার’, ‘কয় বছরে কয়শো, দেড় বছরে চারশো’, ‘এই ভিসি চায় কী, নিয়োগ ছাড়া আরকী’, ‘লীগ দালালের হয়না কোর্ট, ভিসি বসায় নিয়োগ বোর্ড’, ‘এই প্রশাসন সবার সেরা, স্বজন দিয়ে চবি ভরা’,‘ভিসির ক্ষুধা পায়, নিয়োগ দিয়ে পেট ভরায়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামি ছাত্র মজলিশের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী বলেন, ‘গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিভিন্ন পদে ৪১১ জনকে নিয়োগ দিয়েছে। কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কোন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের ভৌগোলিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।’
‘যদি নিয়োগের স্বচ্ছতা প্রকাশ করতে না পারেন তাহলে আপনাদের নিয়োগের রেট কত, আমাদের সামনে তা প্রকাশ করতে হবে। এই চবি প্রশাসন নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরদিন থেকে বলে আসছে, তারা সবচেয়ে সৎ, যোগ্য ও স্বচ্ছ প্রশাসন। আমরাও এ কথায় বিশ্বাস করতে চাই। নিয়োগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে এর জবাব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেবে। যদি দেখি নিয়োগে অনিয়ম করেছেন তাহলে শিরীন আক্তারের মতো কঠোর পরিণতি আপনাদের হবে, বলেন সাকিব মাহমুদ রুমী’।
পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তানজিম হাসান রাতুল বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন স্থানীয়দের কাছে মার খায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন নিয়োগ বোর্ডে ব্যস্ত ছিল। গতকাল রোমান শুভকে নিয়ে যখন পুরো ক্যাম্পাস গরম ছিল, তখনও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ বোর্ডে ব্যস্ত ছিল’। তিনি আরো যোগ করেন, ‘আপনারা চাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ের স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যাবেন, কিন্তু ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনারা এটাকে পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন’।