ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ কেটে অবরোধ : রহস্যের গন্ধ ইবিতে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, তথ্য দিতে গড়িমসি বিভাগীয় সভাপতির মিয়ানমারের মর্টারশেলের বিকট শব্দে কাঁপছে সীমান্তের বাড়িঘর গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার ওপরে এমবাপ্পে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করবে ১০ জন আনসার সদস্য জেলের জালে মিলল ৫কোটি ১০লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা মাতামুহুরীর রামপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে ইবিতে সিআরসির ফল উৎসব স্টারলিংক সুবিধাসহ ১২ দফা দাবিতে কুবি উপাচার্যের কাছে জাতীয় ছাত্রশক্তির স্মারকলিপি ম্যাক্সের ‘বালু সাম্রাজ্য’ ঘিরে বিতর্ক: পরিবেশ অধিদপ্তরের ৩ কোটি টাকার দণ্ড

তাইওয়ানের পূর্বে চীনের বিশাল নৌবহর মোতায়েন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় দেশের বৃহত্তম টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ এবং একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে চীন। জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধজাহাজগুলো কোস্টগার্ডের মোতায়েনকৃত জাহাজগুলোরে সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের ওই জাহাজগুলো গত সোমবার মোতায়েন করা হয়েছিল বলে গতকাল রোববার সংবাদ প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। চীনা কোস্টগার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট ভেসেল ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেসেল-ট্র্যাকিং সিস্টেমের ডেটায় দেখা গেছে এই বহরে চীনের প্রথম ১০,০০০ টনী সামুদ্রিক টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ রয়েছে। এর পাশাপাশি বহরে রয়েছে ৭,৫০০ টনের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘হাইশুন ০৮’, এবং ৫,০০০ টনের আরও দুটি জাহাজ-সমুদ্র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হাইশুন ০৬’ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ ‘দংহাইজিউ ১১৩’। প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের কোস্টগার্ড এবং সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ তাইওয়ান দ্বীপের পূর্ব দিকের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ টহল পরিচালনা করবে-যা এই সমুদ্র অঞ্চলের ওপর আমাদের পক্ষের নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি গত রোববার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এতে বেইজিংয়ের সাথে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধে জড়ানো জাপান ও ফিলিপাইনের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, দেশ দুটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য ‘ঝামেলার উৎস’ এবং একটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। গত মাসের শেষের দিকে, উভয় দেশ ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। এই সীমানা সম্ভাবত তাইওয়ানের জলসীমার সাথে একীভূত করে করা হতে পারে বলে শঙ্কিত চীন। তাই এই সীমানা সংক্রান্ত আলোচনাকে ‘অবৈধ এবং অকার্যকর’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই সর্বশেষ টহলকে একটি ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, ‘জাপান ও ফিলিপাইন একতরফাভাবে চীনের তাইওয়ান দ্বীপের পূর্ব জলসীমায় সামুদ্রিক সীমানা আলোচনার ঘোষণা দিয়ে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।’ সিনহুয়া এই টহলকে একটি ‘বিশেষ সামুদ্রিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর উদ্দেশ্য ‘দেশের সামুদ্রিক প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় গভীর সমুদ্রে টহল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জোরদার করা।’ বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের এই আলোচনাকে বেইজিং তাইওয়ানের ওপর তাদের অবস্থানের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তাইওয়ানের পূর্বে চীনের বিশাল নৌবহর মোতায়েন

আপডেট সময় : ০৭:২৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় দেশের বৃহত্তম টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ এবং একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে চীন। জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধজাহাজগুলো কোস্টগার্ডের মোতায়েনকৃত জাহাজগুলোরে সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের ওই জাহাজগুলো গত সোমবার মোতায়েন করা হয়েছিল বলে গতকাল রোববার সংবাদ প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। চীনা কোস্টগার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট ভেসেল ইনফরমেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেসেল-ট্র্যাকিং সিস্টেমের ডেটায় দেখা গেছে এই বহরে চীনের প্রথম ১০,০০০ টনী সামুদ্রিক টহল জাহাজ ‘হাইশুন ০৯’ রয়েছে। এর পাশাপাশি বহরে রয়েছে ৭,৫০০ টনের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘হাইশুন ০৮’, এবং ৫,০০০ টনের আরও দুটি জাহাজ-সমুদ্র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হাইশুন ০৬’ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ ‘দংহাইজিউ ১১৩’। প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের কোস্টগার্ড এবং সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ তাইওয়ান দ্বীপের পূর্ব দিকের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ টহল পরিচালনা করবে-যা এই সমুদ্র অঞ্চলের ওপর আমাদের পক্ষের নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি গত রোববার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এতে বেইজিংয়ের সাথে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধে জড়ানো জাপান ও ফিলিপাইনের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, দেশ দুটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য ‘ঝামেলার উৎস’ এবং একটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। গত মাসের শেষের দিকে, উভয় দেশ ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। এই সীমানা সম্ভাবত তাইওয়ানের জলসীমার সাথে একীভূত করে করা হতে পারে বলে শঙ্কিত চীন। তাই এই সীমানা সংক্রান্ত আলোচনাকে ‘অবৈধ এবং অকার্যকর’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই সর্বশেষ টহলকে একটি ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, ‘জাপান ও ফিলিপাইন একতরফাভাবে চীনের তাইওয়ান দ্বীপের পূর্ব জলসীমায় সামুদ্রিক সীমানা আলোচনার ঘোষণা দিয়ে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে।’ সিনহুয়া এই টহলকে একটি ‘বিশেষ সামুদ্রিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর উদ্দেশ্য ‘দেশের সামুদ্রিক প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় গভীর সমুদ্রে টহল ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জোরদার করা।’ বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে জাপান ও ফিলিপাইনের এই আলোচনাকে বেইজিং তাইওয়ানের ওপর তাদের অবস্থানের প্রতি একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।