ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মহানবী(সা.)এর আদর্শ অনুসরণ করে একটি ন্যায় ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব-প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় বঙ্গসেনা’র মিছিল থেকে বাংলাদেশ ভাগ করার ডাক কুবিতে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্টে’ গ্র্যান্ড ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন গণিত বিভাগ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ ভারতে আবারো আন্দোলনের ডাক দিলো ককোরোচ জনতা পার্টি চান্দগাঁও এন এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ে জি পি এ-৫ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায়–এম পি এরশাদ উল্লাহ কুবির নজরুল হলে দুই দফা মারামারি, বহিষ্কৃতদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন শিশুর মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা বা প্যারেন্টিং এর গুরুত্ব লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল : সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি তেহরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কলকাতায় বঙ্গসেনা’র মিছিল থেকে বাংলাদেশ ভাগ করার ডাক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আবার বঙ্গসেনার আবির্ভাব ঘটেছে। জনবহুল ও ব্যস্ত শিয়ালদহ থেকে একটি মিছিল রাজপথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাদের স্লোগান ছিল, ‘বঙ্গসেনা দিচ্ছে ডাক, বাংলাদেশকে কর ভাগ’ আরেকটি স্লোগান ছিল, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ওই আমাদের ঠিকানা’
মিছিলে নারীদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়; তারাও পোস্টার ও ব্যানার বহন করছিলেন। অনেকেই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই মিছিল দেখতে থাকেন। ব্যানার ও লিফলেট থেকে এই সংগঠনের পরিকাঠামো সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।

প্রস্তাবিত ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্থ সামন্তর নাম রয়েছে। এই সংগঠনের সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাস এবং প্রধান মুখপাত্র সুভাষ মজুমদার। পার্থ সামন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে সুভাষ মজুমদার বলেন, নানা কারণে তিনি এখন আত্মগোপনে রয়েছেন এবং এখনই সামনে আসতে চান না।

মিছিলে থাকা সুভাষ মজুমদার বলেন, ‘আমি বঙ্গসেনার মুখপাত্র। বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাই আমরা বঙ্গভূমি প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছি। পদ্মার দক্ষিণ পাড় ও মেঘনার পশ্চিম পাড়ে যে ছয়টি জেলা রয়েছে, সেগুলি হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছি, তাই ‘বঙ্গভূমি’র দাবি তুলেছি। ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই সাবেক ৬টি জেলা আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সেখানেই আমরা প্রথমে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠা করব। বাংলাদেশ ভেঙে আমরা এই রাষ্ট্র তৈরি করব। এ জন্য আমরা জাতিসংঘেও চিঠি দিয়েছি। যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তবে বঙ্গসেনা যা যা পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তা করতে পিছপা হবে না।’

পরে অবশ্য মুখপাত্র মজুমদার এক আস্তানা থেকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ২১টি জেলা। তাছাড়া বাংলাদেশ ‘চিকেন নেক’ করিডোর নিয়ে ভারতকে ভয় দেখাচ্ছে। তাই আমরা রংপুর জেলাকেও বঙ্গভূমিতে শামিল করার দাবি জানাব। আমরা বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি চাই। এই ভূমি আমাদেরই ছিল, কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

এরপর টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয় বঙ্গভূমির সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, এই বঙ্গসেনার হেডকোয়ার্টার্স আসামের কার্বি আংলং জেলায় অবস্থিত। তবে ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়েও তাদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে। বঙ্গসেনা তাদের সেনাদের কোথায় প্রশিক্ষণ দেয়—এই প্রশ্ন করা হলে সেনাধ্যক্ষ বলেন, ‘এগুলি আমাদের গোপন বিষয়। প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে।’

নারায়ণ দাস ও সুভাষ মজুমদার দুজনেই জানান, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু হিন্দু সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে সেনাধ্যক্ষ বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। তবে আমরা এগুলি গোপন রাখি, কারণ তা না হলে পরিষদের নেতারা বিপদে পড়তে পারেন।’ তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূমির ৮০ শতাংশ একসময় হিন্দুদেরই ছিল, যার মধ্য থেকে তারা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দাবি করেছেন।

দেখা যায়, বঙ্গসেনার ইউনিফর্ম পুরোপুরি লাল রঙের। সংগঠনের নারী সদস্যদের অধিকাংশই লাল শাড়ি পরে কলকাতার রাজপথে এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কলকাতায় বঙ্গসেনা’র মিছিল থেকে বাংলাদেশ ভাগ করার ডাক

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আবার বঙ্গসেনার আবির্ভাব ঘটেছে। জনবহুল ও ব্যস্ত শিয়ালদহ থেকে একটি মিছিল রাজপথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাদের স্লোগান ছিল, ‘বঙ্গসেনা দিচ্ছে ডাক, বাংলাদেশকে কর ভাগ’ আরেকটি স্লোগান ছিল, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ওই আমাদের ঠিকানা’
মিছিলে নারীদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়; তারাও পোস্টার ও ব্যানার বহন করছিলেন। অনেকেই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই মিছিল দেখতে থাকেন। ব্যানার ও লিফলেট থেকে এই সংগঠনের পরিকাঠামো সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।

প্রস্তাবিত ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্থ সামন্তর নাম রয়েছে। এই সংগঠনের সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাস এবং প্রধান মুখপাত্র সুভাষ মজুমদার। পার্থ সামন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে সুভাষ মজুমদার বলেন, নানা কারণে তিনি এখন আত্মগোপনে রয়েছেন এবং এখনই সামনে আসতে চান না।

মিছিলে থাকা সুভাষ মজুমদার বলেন, ‘আমি বঙ্গসেনার মুখপাত্র। বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাই আমরা বঙ্গভূমি প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছি। পদ্মার দক্ষিণ পাড় ও মেঘনার পশ্চিম পাড়ে যে ছয়টি জেলা রয়েছে, সেগুলি হিন্দুদের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছি, তাই ‘বঙ্গভূমি’র দাবি তুলেছি। ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই সাবেক ৬টি জেলা আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সেখানেই আমরা প্রথমে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠা করব। বাংলাদেশ ভেঙে আমরা এই রাষ্ট্র তৈরি করব। এ জন্য আমরা জাতিসংঘেও চিঠি দিয়েছি। যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তবে বঙ্গসেনা যা যা পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তা করতে পিছপা হবে না।’

পরে অবশ্য মুখপাত্র মজুমদার এক আস্তানা থেকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের ২১টি জেলা। তাছাড়া বাংলাদেশ ‘চিকেন নেক’ করিডোর নিয়ে ভারতকে ভয় দেখাচ্ছে। তাই আমরা রংপুর জেলাকেও বঙ্গভূমিতে শামিল করার দাবি জানাব। আমরা বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি চাই। এই ভূমি আমাদেরই ছিল, কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

এরপর টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয় বঙ্গভূমির সেনাধ্যক্ষ নারায়ণ দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, এই বঙ্গসেনার হেডকোয়ার্টার্স আসামের কার্বি আংলং জেলায় অবস্থিত। তবে ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়েও তাদের ভালো উপস্থিতি রয়েছে। বঙ্গসেনা তাদের সেনাদের কোথায় প্রশিক্ষণ দেয়—এই প্রশ্ন করা হলে সেনাধ্যক্ষ বলেন, ‘এগুলি আমাদের গোপন বিষয়। প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে।’

নারায়ণ দাস ও সুভাষ মজুমদার দুজনেই জানান, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু হিন্দু সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে সেনাধ্যক্ষ বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। তবে আমরা এগুলি গোপন রাখি, কারণ তা না হলে পরিষদের নেতারা বিপদে পড়তে পারেন।’ তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূমির ৮০ শতাংশ একসময় হিন্দুদেরই ছিল, যার মধ্য থেকে তারা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দাবি করেছেন।

দেখা যায়, বঙ্গসেনার ইউনিফর্ম পুরোপুরি লাল রঙের। সংগঠনের নারী সদস্যদের অধিকাংশই লাল শাড়ি পরে কলকাতার রাজপথে এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন।