ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপি নেতা বুলুর বিবৃতি সাতকানিয়ার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ‘বাঁচা’ র‌্যাব-১৫-এর জালে ইসলামপুরে দশানী নদীর তীব্র ভাঙন: বিলীনের পথে ফসলি জমি আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন খামেনির প্রথম জানাজায় উপস্থিত প্রায় দুই কোটি মানুষ ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ, গণধোলাই শেষে যুবক পুলিশের হাতে র‍্যাব-১৫-এর বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ল দীর্ঘদিনের পলাতক পরোয়ানাভুক্ত আসামি কক্সবাজারে আলোচিত কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি র‌্যাবের জালে খামেনির জানাজায় প্রতিশোধের আহবানে লাল পতাকা কাজী ফার্মেসী এন্ড ডক্টরস চেম্বারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ,বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপি নেতা বুলুর বিবৃতি

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ভিশনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক এলাকায় আলোচিত অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হওয়ার পর গাজীপুর মহানগরীর ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রেক্ষাপটে কামাল হোসেন বুলু আজ (৫ জুন) রবিবার এক লিখিত বিবৃতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মামলায় জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তিনি সাদরে গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তার কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন।
তবে আলোচিত ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বুলু দাবি করেন, ঘটনার সময় তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তিনি বলেন, “কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমার হাতে অস্ত্র ছিল, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।

তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানার ভেতরে তিনি প্রবেশ করেননি। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকায় কী বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা জানার উদ্দেশ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইজা বাটন জিপার লিমিটেডে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জানতে পেরে তিনি সেখানে যান।

বুলুর দাবি, কারখানার ভেতরে যারা প্রবেশ করেছিলেন, তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। এ অবস্থায় তাকে কোন ভিত্তিতে মামলার আসামি করা হয়েছে, সে প্রশ্নও তিনি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এখনও ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন। তার দাবি, এসব অর্থ ভবিষ্যতে সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিবৃতির শেষাংশে কামাল হোসেন বুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি অনুগত থেকে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, টঙ্গীতে আলোচিত অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় নাম আসার পর বিএনপি কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এর পর মামলার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি গ্রুপিং রাজনীতির স্বীকার বুলু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে বিএনপি নেতা বুলুর বিবৃতি

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক এলাকায় আলোচিত অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হওয়ার পর গাজীপুর মহানগরীর ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রেক্ষাপটে কামাল হোসেন বুলু আজ (৫ জুন) রবিবার এক লিখিত বিবৃতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মামলায় জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তিনি সাদরে গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তার কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন।
তবে আলোচিত ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বুলু দাবি করেন, ঘটনার সময় তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তিনি বলেন, “কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমার হাতে অস্ত্র ছিল, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।

তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানার ভেতরে তিনি প্রবেশ করেননি। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকায় কী বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা জানার উদ্দেশ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফাইজা বাটন জিপার লিমিটেডে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জানতে পেরে তিনি সেখানে যান।

বুলুর দাবি, কারখানার ভেতরে যারা প্রবেশ করেছিলেন, তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। এ অবস্থায় তাকে কোন ভিত্তিতে মামলার আসামি করা হয়েছে, সে প্রশ্নও তিনি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এখনও ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছেন। তার দাবি, এসব অর্থ ভবিষ্যতে সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিবৃতির শেষাংশে কামাল হোসেন বুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি অনুগত থেকে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, টঙ্গীতে আলোচিত অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় নাম আসার পর বিএনপি কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এর পর মামলার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি গ্রুপিং রাজনীতির স্বীকার বুলু।