———
শহীদ ইফাতের মায়ের কাছে গিয়েছিলাম। যে মায়েদের কান্না আমি কখনো ভুলতে পারবো না, তাদের মধ্যে ইফাতের মা একজন। ওই একটা মাত্র ছেলের মা। ঘণ্টাখানেক আলাপে আন্টি চার-পাঁচবার একই কথা বললেন: “বাবা, আমার সালাউদ্দিন আহমেদ-এর সাথে দেখা করার ইচ্ছা।
আমি তারে আমার ছেলের এই ছবিটা দেখাইয়া জিগ্গেস করতে চাই, দেশ যদি আবেগ দিয়ে না চলে, তাহলে আমার ছেলেটারে ফিরাইয়া দিতে। আমার ছেলে তো বিবেকের আবেগে গিয়ে তাদের মুক্ত করে নিজে হারাইয়া গেছে। আমার একটামাত্র ছেলে ছাড়া আমি কিভাবে যে আছি… তুমি তো বুঝো কষ্টগুলো।”
কথাগুলো এতটুকু পর্যন্ত ঠিক ছিল, এরপর আন্টি যা বলল তা আগের বার যখন এসেছিলাম তখন বলেননি, বললেনঃ “আমার তরতাজা ছেলেটা… এত তরতাজা যে, লাশ যখন আনে, তুমি যেই সিঁড়ি দিয়ে উঠছো, সেখানে অনেকক্ষণ রাখা ছিল। পরে সেখান থেকে সরানো হলে বিল্ডিং-এর মালিক বেলচা দিয়ে রক্তের জমাট বাঁধা দলা বালতিতে ভরে জায়গাটা ধুইছে।”
কথাটা শোনার পর আমার মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসতেছে, এটা আমারে উনি কি বললো? আমার মাথায় তো চিত্রটা ভাসতেছে, কারণ কোরবানির সময় তো আমি এই চিত্র দেখি।
-আকিফ আব্দুল্লাহ