নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার থেকে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
আজ (১৩ মার্চ) বিকেলে অভিযানে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ৩০টির বেশি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে গত দুই দিন বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়েছিল।
৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সমুদ্রসৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে এবং এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সৈকতের অবৈধ স্থাপনাসমূহের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।”
অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যটন শাখার ইনচার্জ মনজু বিন আফনান। তিনি জানিয়েছেন, “প্রথম দিনের অভিযানে ৩০টির বেশি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্যান্য স্থাপনাও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।”
সুগন্ধা পয়েন্টের চটপটি বিক্রেতা আবদুল খালেক অভিযোগ করেন, “কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আমার দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। আয়রোজগার বন্ধ হলে পরিবার নিয়ে আমাদের অনাহারে থাকতে হবে।”
সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবসার অনুমতি নিয়ে শতাধিক ব্যবসায়ী বালিয়াড়িতে অস্থায়ী দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সৈকতে বালিয়াড়ি দখল করে কয়েকশ দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল, এখন সেগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মাঝখানে অনুমতি নিয়ে যাঁরা ব্যবসা শুরু করেছেন, তাঁদেরও রেহাই পাচ্ছেন না।”
উল্লেখ্য, অভিযান আজও ১৩ মার্চ সুগন্ধা সৈকতে অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে, যাতে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত সৈকত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।