নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (বিসিজি)। গত দুই মাসে পরিচালিত একাধিক অভিযানে ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র ও ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জলদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কোস্ট গার্ড সদস্যদের একটি অংশ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। এ পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের আওতাধীন নাফ নদী ও সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের জলযান ও সন্দেহজনক গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দিনব্যাপী কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম, কোস্ট গার্ড জাহাজ শ্যামল বাংলা এবং কোস্ট গার্ড স্টেশন কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া ও শাহপরী দ্বীপের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা প্রতিরোধ করা।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের সাগর, নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।