মোঃ আবু সঈদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার ৫ টি আসনেই নির্বাচনী আমেজ চলছে। সেই আমেজ প্রতীয়মান হচ্ছে সুনামগঞ্জ-৩ ( শান্তিগঞ্জ- জগন্নাথপুর) আসনেও। কে হবেন আগামী ৫ বছরের কান্ডারী। শিক্ষা,স্বাস্থ্য,স্যানিটেশন, কারিগরী প্রশিক্ষণ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নকে ধরে রাখতে প্রয়োজন জনগণের সেবায় নিবেদিত প্রাণ। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকার্য বাস্তবায়নে যিনি রাখবেন অবদান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক কুটনীতিবিদ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ,জাতীয় সংসদের স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ফারুক রশীদ চৌধুরী ও আলহাজ্ব এম এ মান্নান সহ গুণীজনদের এই আসনে কে ভালবাসার বিনিময় করবে সেই প্রত্যাশা ভোটারদের হৃদয়ে। আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতায় থাকলেও ভোটের মাঠে প্রচারণায় ৪ জনকে প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে। গণপ্রচারণার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অবস্হান করছেন দু’জন হেভিওয়েট প্রার্থী। একজন ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রক্তেমাখা ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করে রাজনীতির মাঠে ঠিকে থাকা নীরব বিপ্লবের অগ্রদূত তালা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি। জনগণের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে আইন পেশার জীবনকে জলাঞ্জলি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আনাচে- কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দ্বারে-দ্বারে ভোটের বাণী পৌঁছে দিতে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনসমর্থনে এগিয়ে থাকা ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন সংসদীয় এলাকা জগন্নাথপুর উপজেলায় ও নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তিনি নন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের প্রচারণায় এগিয়ে আসার চিত্র ও ফুটে উঠছে।তফসিল পূর্ববর্তী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় সমঝোতায় মাঠে থাকা মেজর আশফাক শামীসহ জোটবদ্ধ প্রার্থীদের প্রচারণাও কম নয়। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনকে আগামী ঐতিহ্যের বাহক হিসেবে গ্রাম- গ্রামান্তরে ভোটাররা উপযুক্ত বলে মনে করছেন। তাই বিজয়ের স্বপ্নে উৎসাহ- উদ্দীপনার আমেজে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় জনতা। দলীয় মনোনয়ন জনমতের বাহিরে দাবী করে ভোটারদের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্চ হিসেবে সমর্থন জানিয়ে মাঠে কাজ করছেন তিনি। প্রচার-প্রচারণা ও জনগণের ভালবাসায় সাড়া জাগিয়ে এগিয়ে আছেন প্রথম সারিতে। লিখিত বার্তায় বহিষ্কার আদেশ প্রদান করলে ও মনোবল হারাননি আজো।
তাঁহার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী জনসমর্থনে তূমুল লড়ে যাচ্ছেন বিএনপির দলীয় মনোনীত ধানের শীষের কান্ডারী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির ৩ বারের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে-ঘাটে কাজ করছেন স্থানীয় সিনিয়র নেতাকর্মীরা। আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও স্হানীয় নেতৃবৃন্দরা ভালবাসার আড়ালে মনে হচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে তিনি নিজ উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকা শান্তিগঞ্জে প্রচারণায় ২য় অবস্থানে আছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অভূতপূর্ব প্রচেষ্টায় আরো এগিয়ে যাওয়ার দূঢ় প্রত্যয়ে মত্ত।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী।তিনি রিকশা প্রতীকে দুই উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিগত সময়ের দলীয় জনসমর্থন অনেকটা দূরে অনুভূত হলেও পরিচিতি সবার অন্তরে।
তাছাড়া আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগল প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম। প্রথম দিকে গণজোয়ারে এগিয়ে থাকা সৈয়দ তালহা আলম দল পরিবর্তনে কিছুটা পিছনে থাকলেও নিজ উপজেলা জগন্নাথপুরে বিগত সময়ের পরিচিতিসেবায় অবস্থান তৈরি করেছেন প্রথম সারিতে। সিদ্ধান্তে অপেক্ষমান থাকা ১০ দলীয় জোটের সমর্থন পেলে পৌছতে পারেন গোলবারে।
তাছাড়া মাঠে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের হাফেজ শেখ মুশতাক আহমেদ। আরো দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট খালেদ আহমদ তুষার ও হোসাইন আহমেদ হিমেল রয়েছেন পরিচিতি সেবায়। যাদেরকে মাঠে মিলেনি প্রচারণায়।
নিজ সমর্থক ও দলীয় প্রচারণা যাই হোক না কেন ভোটারদের একটি বিরাট অংশ নীরবে অবস্থান করছে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্তে। তাদের সমর্থন বার্তায় মনোনীত প্রার্থীর বিজয়কে নিশ্চিত করবে ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনে।